লন্ডনে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড ‘দোয়া করবেন যেন বেশি কষ্ট না পেয়ে মরি’

জুন ১৬ ২০১৭, ১০:৩১

লন্ডনের লাটিমার রোডের কাছে গ্রেনফেল টাওয়ারের ভেতরে আটকা পড়েছে বাংলাদেশি একটি পরিবার। এই পরিবারের প্রধান মৌলভীবাজারের কমরু মিয়া। পুড়ে যাওয়া ভবনের বাইরে তাঁর এক ছেলে আবদুল হাকিম বাবা-মা ও ভাইবোনকে পাগলের মতো খুঁজছেন। আর সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে মৌলভীবাজারের বাড়িতে ছটফট করছেন কমরু মিয়ার অন্য ছেলে মো. সুজন। তাঁরা স্বজনের খোঁজ চান। জীবিত অথবা মৃত।

১৪ জুন লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে আগুন লাগে। আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলেও এখনো অনেকে নিখোঁজ। এই নিখোঁজদের মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশি একটি পরিবার। গ্রেনফেল টাওয়ারের ১৮ তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন পরিবারের প্রধান কমরু মিয়া (৯০), তাঁর স্ত্রী রাবিয়া বেগম (৬৫), ছেলে আবদুল হানিফ (২৯) ও আবদুল হামিদ (২৬) এবং মেয়ে হাসনা বেগম ওরফে তানিমা (২২)। বাড়ির সবচেয়ে ছোট মেয়ে হাসনার বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছিল জুলাইয়ের ২৯ তারিখ। তারপরই সবাই মিলে মৌলভীবাজারের বাড়িতে আসবেন—এমনই ছিল পরিকল্পনা।

গ্রেনফেল টাওয়ারের কাছে ১৪ তারিখ থেকে অপেক্ষা করছিলেন কমরু মিয়ার ভাইয়ের ছেলে আবদুর রহিম। আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, বুধবার রাত ১টা ৩৭ মিনিটে হাসনাই তাঁকে আগুন লাগার খবর দেন। তিনি গ্রেনফেল টাওয়ারের কাছে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যে আবার ফোন আসে। হাসনা তাঁর চাচাতো ভাইকে বলেন, ‘আগুন পুরো ফ্ল্যাট ছেয়ে

ফেলেছে, বাথরুমটা শুধু বাকি। আমরা সবাই মরে যাচ্ছি, দোয়া করবেন যেন বেশি কষ্ট না পেয়ে মরি!’ তার একটু পরই চাচা কমরু মিয়াকে বাঁচার জন্য সাহায্য চেয়ে চিৎকার করতে শোনেন তিনি।

আবদুর রহিম আরও জানান, মাত্র বছরখানেক আগে কমরু মিয়ারা এডমান্টন থেকে গ্রেনফেল টাওয়ারে আসেন। ১৮ তলা থেকে ওঠানামা করতে কমরু মিয়ার কষ্ট হতো। নিচের কোনো ফ্ল্যাটে স্থানান্তরের অনুরোধ জানিয়েছিলেন ভবন কর্তৃপক্ষকে। শেষ পর্যন্ত আর স্থানান্তর করা হয়নি তাঁদের।

প্রথম আলোর মৌলভীবাজার প্রতিনিধি গতকাল বৃহস্পতিবার কমরু মিয়ার বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুরা ইউনিয়নের খৈশাউড়া গ্রামে যান। গ্রামের বাড়িতে এখন কবরের নীরবতা। কমরু মিয়ার ছেলে মো. সুজন মিয়া গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা চার ভাই ও তিন বোন। তিনি ও দুই বোন দেশে থাকেন। অন্যরা লন্ডনে। হাসনার বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি একটি মুঠোফোন কোম্পানিতে কাজ করতেন। লেস্টারের একটা ‘ভালো ছেলে’র সঙ্গে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়েছিল। বিয়ের জন্য হল বুকিং, দাওয়াত দেওয়ার কাজও চলছিল। কথা ছিল বিয়ের পর তাঁরা মৌলভীবাজারে আসবেন। বড় অনুষ্ঠান হবে। এখন শুনছেন, ভবনের ভেতর কারও বেঁচে থাকার আশা নেই। আগুন কেড়ে নিল পরিবারের পাঁচজনকে। তবু শেষ খবরটুকু শোনার অপেক্ষায় তাঁর এক ভাই গ্রেনফেল টাওয়ারের বাইরে আর তিনি মৌলভীবাজারের বাড়িতে অপেক্ষায় আছেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>