লালমোহনে বিয়ের স্বীকৃতি পেতে শ্বশুড় বাড়িতে অন্তস্বত্তা পুত্রবধূর অনশন

জুন ০৪ ২০১৭, ২২:৫৩

লালমোহন প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহনে বিয়ের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য শ্বশুড় বাড়িতে অনশন শুরু করছে এক অন্তসত্তা বধূ। রবিবার বেলা ২টা থেকে এই অনশন শুরু হয় লালমোহন পৌর শহরের আখড়াবাড়ি সংলগ্ন বাজারের ব্যবসায়ী কালিপদ দাসের বাসায়। এই অনশন দেখতে উৎসুক জনতার ভীড় জমে। স্থানীয় সুত্র জানায়, বাজারের ব্যবসায়ী কালিপদ দাসের ছেলে উজ্জল দাস ঢাকার গাজিপুরে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে গিয়ে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা দিপ্তি রানী দাস নামের এক তরুনীর সাথে প্রেমের সর্ম্পক হয়। পরে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে জয়দেবপুর শিব মন্দিরে তাদের বিয়ে হয়। দিপ্তি রানী জানান, বিয়ের পর প্রায় ২ বছর ধরে ভাড়া বাসায় এক সাথে সংসার করলেও হটাৎ করে উজ্জল দাস আমাকে কোনো কিছু না বলে এক প্রকার ফেলে রেখে গাজিপুর ছেড়ে দেশের বাড়ি লালমোহনে চলে আসে। বেশ কিছু দিন অপেক্ষা করে অবশেষে উজ্জলকে খুঁজতে খুঁজতে লালমোহনে এসে তার পৈত্রিক ঠিকানায় উঠি। অনশনরত দিপ্তি রানী দাস আরো বলেন, আমি বর্তমানে প্রায় ৩ মাসের অন্তসত্তা। এর আগে আমার আরেকটি সন্তান নষ্ট করেছে উজ্জল। এবার ২য় সন্তান গর্ভে রেখে উজ্জল আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় আমার মনে

সন্দেহ জমে এবং আমি হতাশার মধ্যে পরে যাই। উপায়ন্তর না পেয়ে গত ২২ দিন ধরে উজ্জলকে ভোলা জেলার আনাচে কানাচে খুঁজতে খুঁজতে লালমোহনে তার পৈত্রিক বাড়ির সন্ধান পাই। এখন আমি এই বাড়ির বউ। আমাকে ঘরে না উঠালে আমি এখানে জীবন দেবো। এদিকে দিপ্তি রানীর উপস্থিতি টের পেয়ে বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে এক যোগে গা ঢাকা দিয়েছে দিপ্তির স্বামী উজ্জল, শ্বশুড় কালিপদ দাস ও উজ্জলের মা। দিপ্তির অনশন শুরুর সময় এদের কাউকে না পাওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছে, স্বামীর সংসারের অধিকার পাওয়ার জন্য বেশ কিছুদিন ধরে দিপ্তি রানীর এখানে ওখানে দিন কাটানোর বিষয়টি সবই অবগত রয়েছেন দিপ্তির শ্বশুড় কালিপদ ও তার স্বামী উজ্জল। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে তারা দিপ্তি রানীকে ঘরে তুলছে না এবং বউ হিসেবে স্বীকৃতিও দিচ্ছে না। বিষয়টি মিমাংসার জন্য সমাজপতিদের অনেকে এগিয়ে আসার চেষ্টা করলেও কালিপদ দাস ও তার ছেলে উজ্জল দাস তেমন পাত্তা না দেয়ায় সমাজপতিরাও কালিপদ দাসের পরিবার থেকে মুখিয়ে গেছে। লালমোহন পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রঞ্জয় দাস বলেন, বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু সুনিদৃষ্টভাবে আমার কাছে কোনো পক্ষ সমাধান চায়নি।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>