বরিশাল মহানগর আ’লীগ নেতা মনির মোল্লা মাদক ব্যবসায়ী! বরিশাল মহানগর আ’লীগ নেতা মনির মোল্লা মাদক ব্যবসায়ী! - For update barisal news visit barisallive24.com
বরিশাল, ১৮ই জুন, ২০১৮ ইং। সর্বশেষ আপডেট: ৩ মিনিট আগে
শিরোনাম

লাইভ রিপোর্ট


বরিশাল মহানগর আ’লীগ নেতা মনির মোল্লা মাদক ব্যবসায়ী!

ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭ ৩:১০ পূর্বাহ্ণ

 

বরিশালঃবিপুল পরিমান ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের ঘটনায় মামলা থেকে রহস্যজনক ভাবে বাদ পড়া মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান মনির মোল্লার বিরুদ্ধেই চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। একই ঘটনায় দায়ের হওয়া পৃথক দুই মামলার চার্জশীটেই মনির মোল্লাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মনির মোল্লা এবং একজন পুলিশ কনস্টেবল সহ দুই মামলায়ই ১৪ জনকে অভিযুক্ত করেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর ডিবি’র পরিদর্শক জসিম উদ্দিন শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) আদালতে উপস্থাপনের জন্য কোতয়ালী মডেল থানার আদালত সংশ্লিষ্ট জিআরও এর নিকট চার্জশীট জমা দেন।

*** ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে নতুন বছরে নতুন লঞ্চ কীর্তনখোলা ১০

এদিকে চার্জশীট অনুযায়ী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান মনির মোল্লাও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন। তিনিই আটক হওয়া অপর মাদক ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামকে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) এর নগরীর রূপাতলী কার্যালয়ের রেষ্ট হাউসে থাকার সুযোগ করে দেন। এমনকি ইয়াবা ব্যবসায় প্রতি ২০ হাজার টাকা লাভের ১০ হাজার টাকাই মনির মোল্লাকে দিতে হতো।

অপরদিকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে দায়ের হওয়া দুই মামলার চার্জশীট ভুক্ত অভিযুক্ত আসামীরা হলো- বাকেরগঞ্জের নিয়ামতি ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামের মৃত শাহজাহান মুন্সির ছেলে জাহিদুল ইসলা, একই ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামান তালুকদারের ছেলে কামরুল ইসলাম তালুকদার, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এসএএফ শাখার কনস্টেবল মো. মো. সাইফুল ইসলাম সানি (কং নং-১৬৮৮)। সে বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের হলতা গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান সিরাজের ছেলে।

***বরিশাল বিভাগে হচ্ছে সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটিঃপ্রাধানমন্ত্রী

এছাড়া তদন্তে পাওয়া আসামীরা হলো- নগরীর ২৫নং ওয়ার্ডের মোল্লাবাড়ির বাসিন্দা মৃত ইছাহাক মোল্লার ছেলে ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান মনির মোল্লা, ঝালকাঠি জেলার আখরপাড়া গ্রামের আব্দুল বারেক চৌধুরীর ছেলে শামীম চৌধুরী, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণি স্টাফ কোয়ার্টাসের বাসিন্দা মাঈনুদ্দিন এর ছেলে মো. নাছির ওরফে মেলা নাছির, বাকেরগঞ্জ উপজেলার কালিদাসিয়া গ্রামের রশিদ খানের ছেলে রূপাতলী ২৩নং ওয়ার্ডের নাসির উদ্দিনের ভাড়াটিয়া নাসির খান, পশ্চিম চরকাউয়া দুই নং ওয়ার্ডের আব্দুল হক হাওলাদারের ছেলে মো. মিলন, কক্সবাজারের টেকনাফ’র বাসিন্দা আব্দুর রহমানের ছেলে সৈয়দ মোর্শেদুর রহমান, একই এলাকার দ্বীপশ্রীকুল গ্রামের সশাংক বড়–য়ার মেয়ে রতœা বড়–য়া, বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের রুনশী গ্রামের চেরাগ আলী হাওলাদারের ছেলে আজিজুল হক, ঝালকাঠি জেলা সদরের বাসিন্দা জামাল হাওলাদারের স্ত্রী রেকছোনা বেগম, দিনাজপুরের মাছপাড়া ভাবকি গ্রামের আতিবুর রহমানের ছেলে আব্দুস ছালাম, টেকনাফের দরগাহছড়া গ্রামের আলী আন্তর’র ছেলে জাহেদ হোসাইন ও ময়মনসিংহ এর গারাজান মধ্যপাড়ার বাসিন্দা হোসেন মুন্সির ছেলে সোহেল।

 বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চের আধুনিকতার বাস্তবতা কতটুকু!

চার্জশীট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার ওজোপাডিকো গেটের সামনে থেকে জাহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ৫২ পিচ ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওজোপাডিকোর রেষ্ট হাউসে তারই কক্ষ থেকে ২’শত পিচ ইয়াবাসহ কামরুল ইসলাম ও ১’শত পিচ ইয়াবাসহ পুলিশ কনস্টেবল সাইফুল ইসলামকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া জাহিদের বিছানার নিচ থেকে আরো একশ পিচ মিলিয়ে মোট ৪৫২পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় এসআই দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় পুলিশ কনস্টেবল সহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। তবে ঘটনার সময় মনির মোল্লা ওই স্থানে থাকলেও ডিবি পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠে। এমনকি অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে দিনভর নানা নাটকিয়তা শেষে রাতে অভিযানের বিষয়টি স্বীকার করে ডিবি পুলিশ। কিন্তু মনির মোল্লাকে আটক কিংবা মাদক ব্যসার সাথে মনির মোল্লার সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগও এড়িয়ে যান এসআই দেলোয়ার হোসেন। তবে অভিযোগ ওঠে মোটা অংকের বিনিময়ে মনির মোল্লাকে ছেড়ে দেয়ার পাশাপাশি ওই মামলায় আসামী করা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় এবং জাতিয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। আর তাই আদালত স্বপ্রনোদিত হয়ে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। শেষ পর্যন্ত ডিবি পুলিশের তদন্তে মহানগর আওয়ামী লীগের বিষফোড়া ক্ষ্যাত মনির মোল্লাকে চার্জশীটে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অবশ্য এর পূর্বে মামলায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতার এড়াতে গত ৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুর রহমান মনির মোল্লা উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তী কালের জন্য জামিন গ্রহন করেন।

এদিকে আদালত সূত্রে জানাগেছে, ইয়াবা সহ আটক হওয়া জাহিদুল ইসলামকে আদালতে প্রেরন করা হলে সে আদালতের কাছে ১৬৪ ধরায় জবানবন্দী দেয়। জবানবন্দীতে জানায়, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান মনির মোল্লা তাকে ওজোপাডিকো রেষ্ট হাউসে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। কয়েকটি ইয়াবার চালান আনায় মনির মোল্লা। এর মধ্যে ইয়াবা বিক্রিতে ২০ হাজার টাকা লাভ হলে ১০ হাজার টাকা তাকে দিতে হয়েছে। যেমন ১’শত পিস ইয়াবা বিক্রিতে পাঁচ হাজার টাকা লাভ হলে মনির মোল্লাকে ২ হাজার টাকা দিতে হত।

অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, মনির মোল্লার সাথে মাদক ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ ছিলো। গত ২০ জুলাই থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা দু’জন মুঠোফোনে এক হাজার ৮৩৫ বার কথা বলে। একই সময় ৬৬৯টি ক্ষুদেবার্তা (এসএমএস) আদান প্রদান করেন। তাছাড়া শুধুমাত্র ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মনির ও জাহিদের ২৪২ বার এবং ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা হতে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত মোট ২২ বার কথা হয়। এ সময়ের মধ্যে আদান প্রদান হয় ১১৮টি এসএমএস। যার বেশিরভাগই ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয় ও লাভের টাকার বিষয়ে কথোপকথন হয়।

আরও পড়ুন

***বরিশাল সিটি নির্বাচনঃ এগিয়ে আছে বামপন্থিরা!

***রামপালের আগে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাজিমাত!

পাঠকের মতামত:

[wpdevart_facebook_comment facebook_app_id="322584541559673" curent_url="" order_type="social" title_text="" title_text_color="#000000" title_text_font_size="22" title_text_font_famely="monospace" title_text_position="left" width="100%" bg_color="#d4d4d4" animation_effect="random" count_of_comments="3" ]
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য
TECHNOLOGY: SPIDYSOFT IT GROUP