লুটপাটের টাকা ক্ষমতাসীনরা সুইস ব্যাংকে পাচার করেছে: বিএনপি

আপডেট : June, 30, 2017, 5:02 pm

দুর্নীতি আর লুটপাটের টাকা ক্ষমতাসীনরা সুইস ব্যাংকে পাচার করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সরফত আলী সপু, তাইফুল ইসলাম টিপু, এম এ মালেক উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা রাখার পরিমাণ আরও বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এক হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা হয়েছে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে। অথচ সারা দুনিয়া থেকে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ জমার পরিমাণ কমেছে। ২০১৬ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ থেকে জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ, বাংলাদেশি মুদ্রায় বিনিময় করলে এর পরিমাণ দাঁডায় প্রায় ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকায়। ২০১৫ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ থেকে জমার পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আগের বছরের চেয়ে এ জমার পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৬’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসএনবির বার্ষিক এ প্রতিবেদন থেকে বাংলাদেশের অর্থ জমার এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রিজভী বলেন, মূলত দুর্নীতি আর লুটপাটের টাকা সুইস ব্যাংকে পাচার করেছে ক্ষমতাসীনরা। গতকাল অর্থমন্ত্রী সংসদে যে বলেছেন ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত নাজুক। লালবাতি জ্বলার উপক্রম হয়েছে। সে ব্যাংক লুটের টাকাই সুইস ব্যাংকে পাচার হয়েছে বলে সবাই বিশ্বাস করে। টাকা পাচারের পেছনে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের লোকেরা জড়িত। তা না হলে অর্থমন্ত্রী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অসহায়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন না। সত্যিকার অর্থে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। এছাড়া সুশাসনের অভাবে বিনিয়োগ পরিবেশের ঘাটতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দেশ থেকে বিদেশে অর্থ নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়ছে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার জোর করে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। লুটপাটের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সমস্ত আর্থিকখাত ধ্বংস করে দিয়েছে। যা গতকাল অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে কিছুটা ফুটে ওঠেছে। তাছাড়া বেসিক ব্যাংক কেলেংকারি, হলমার্ক কেলেংকারি, শেয়ারবাজার কেলেংকারি, সোনালীব্যাংক কেলেংকারি, অগ্রণীব্যাংক কেলেংকারি, রুপালিব্যাংক কেলেংকারির মতো বড় বড় ঘটনা ঘটেছে। অথচ একটিরও বিচার হয়নি বা সুষ্ঠু

তদন্ত হয়নি। অবৈধ ভোটারবিহীন সরকার কেলেংকারি ছাড়া জনগণকে আর কিছুই উপহার দিতে পারেনি। এর পেছনে কারা জড়িত তা সরকার ভালো করেই জানে। জনগণও জানে। কারা সুইস ব্যাংকে টাকা পাচার করছে, কারা কানাডায় বেগম পল্লী গড়ে তুলেছে, কারা মালেশিয়ায় সেকেন্ডহোম বানাচ্ছে তার জবাব জনগণ একদিন দিবে। আর সেজন্যই তাদের জনগণকে এত ভয়। তাই কি করে ভোট ছাড়া আরেকটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখা যায় সে পৈশাচিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। ভোটারবিহীন সরকারকে জনগণের জবাব দেয়ার সময় হয়ে গেছে। জনগণের হাত থেকে পালানো আর সহজ হবে না। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে বলতে চাই দেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা সুইস ব্যাংকসহ বিদেশে পাচারের জন্য দায়ীদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

এবারের ঈদ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আপনারা শুনেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন এবারের ঈদ নাকি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ছিল। মন্ত্রী আরও বলেছেন ঈদে কোনো যানজট ছিল না। যানজট ছিল বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে। আমি মন্ত্রী মহোদয়কে সেই পুরোনো উদ্ধৃতিটি দিতে চাই -অন্ধ হলে কিন্তু প্রলয় বন্ধ থাকে না। যানজটের যে বিভীষিকাময় প্রলয়ের ধাক্কা ঈদমুখী মানুষকে পোহাতে হয়েছে, মন্ত্রীর বক্তব্য মানুষের সে কষ্টকে উপহাস করা। ক্ষমতার নেশায় মজে ব্যর্থতা ঢাকতে মিথ্যা প্রচারই এখন একমাত্র ভরসা আওয়ামী মন্ত্রীদের। জবরদস্তিমূলকভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে গিয়ে মিথ্যা ও অপপ্রচারকে আরও বেশি কায়েমি দৃঢ়মূল করেছে আওয়ামী নেতারা। যানজটে মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগের খবর গণমাধ্যমের সকল শাখায় ছবিসহ ছাপা হয়েছে। যানজটের শিরোনামাঙ্কৃত সচিত্র সংবাদগুলো কী সড়ক মন্ত্রীর চোখে পড়েনি। অতিরিক্ত ক্ষমতাপ্রীতি মানুষকে অন্ধ করে দেয়, মানুষের বুদ্ধিনাশ ঘটায়।

রিজভী আরও বলেন, বৃহস্পতিবার তিনি (ওবায়দুল কাদের) বলেছেন ঈদে সড়কে ৪০ জন লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি যে ডাহা মিথ্যা বলেন এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো দেশের সড়ক মহাসড়কগুলোতে এখন মৃত্যুর মিছিল চলছে। ঈদের আগে ও পরে এখন পর্যন্ত ১২৫ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শুধু বৃহস্পতিবারই এক পরিবারের ৫জনসহ সড়কে প্রাণ হারিয়েছে ২৪ জন। আজকেও বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আর ঈদে বাড়ি ফেরার মানুষের দুর্ভোগের কোনো সীমা ছিল না। ঢাকা-টাঙ্গাইল-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা -চট্রগ্রাম, ঢাকা- আরিচা-খুলনা-যশোর সড়কে ঘরমুখী মানুষকে দিনের পর দিন রাস্তায় থেকে কতইনা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আসলে সারা দেশে সড়কের খানাখন্দ আর বেহাল দশায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে খুশি রাখতে অকপটে মিথ্যার বুলি আউড়িয়েছেন। এর সঙ্গে সত্যের লেশমাত্রই ছিল না।

Facebook Comments