লুটপাট ও চুরির বাজেট: খালেদা জিয়া

জুন ০২ ২০১৭, ১২:০১

সংসদে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘লুটপাট ও চুরির’ বাজেট বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার এক আলোচনা সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘এই বাজেট অর্থমন্ত্রীর নয়, শেখ হাসিনার বাজেট। বাজেট অর্থমন্ত্রী তৈরি করেননি। বাজেট নিয়ে তিনি নিজে কিছু করতে পারেন না। কাজেই হাসিনা যা চান বাজেট তাই। এটা আওয়ামী লীগের বাজেট। এই বাজেটে তাদের চুরি করে পকেট ভারি করার সুযোগ করে দিয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এই বাজেট কী আর বাজেট থাকবে নাকি? পরে দেখা যাবে, এই একটা প্রকল্প, যে প্রকল্পে এখন আছে অন্তত ১০ হাজার কি ২০ হাজার কোটি টাকা। সেটা দেখবেন ৩০ হাজার কোটি টাকা করেছে। আবার বাড়াবে, ৪০ হাজার কোটি টাকা হবে। এভাবে বাড়তে থাকে। তাই বাজেটের কী দরকার? প্রত্যেকবারই তো বাজেট করা হয় এবং সে বাজেট শেষ হয়।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েক হাজার আইনজীবী অংশ নেন।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্যে দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, সিনিয়র আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার, সানাউল্লাহ মিয়া, বদরুদ্দোজা বাদল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, শাহ খসরুজ্জামান, রুহুল কুদ্দুস কাজল, এসএম কামালউদ্দিন, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, ঢাকা আইনজীবী সমিতির বোরহানউদ্দিন, খোরশেদ আলম, ইকবাল হোসেন, খোরশেদ মিয়া আলম, ওমর ফারুক ফারুকী, মুক্তার কবির খান, আজিজুল হক বাচ্চু, নারায়নগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাখাওয়াত হোসেন খান প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, শাহজাহান ওমর,

মীর মো. নাসির, এজে মোহাম্মদ আলী, আবদুস সালাম, নাজমুল হক নান্নু, আফজাল এইচ খান, ফজলুল হক মিলন, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজসহ আইনজীবীরা।

আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকার ষড়যন্ত্র করছে এমন অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচনের চেষ্টা করছে তারা। সরকারের এই অপচেষ্টা সফল হবে না।  ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচনের চেষ্টা করলে, সেই নির্বাচন থেকে তাদের বিদায় নিতে হবে। সেখান থেকেই সরকারকে বিদায় নিতে হবে। একাদশ নির্বাচন অবশ্যই সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে বলে জানান তিনি।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। চালের দাম এতো বেশি যে, গরিব মানুষ খেতে পারছে না। কাজেই গ্যাসের দাম বাড়ানো বন্ধ রাখুন। গ্যাসের দাম বাড়ানোর টাকাও লুটের টাকা। তাই এসব লুটপাট বন্ধ করে দেশের মানুষের দিকে একটু তাকান।

দেশের বিচার বিভাগকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, আজ বিচার বিভাগের যে দুরাবস্থা বিরাজ করছে তা প্রধান বিচারপতির বক্তব্য থেকে আমরা বুঝতে পারি। বিচার বিভাগের ওপর সরকারের থাবা এতো বেশি যে, সব জায়গায় তারা হাত দিয়েছে। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য থেকে আমরা বুঝেছি যে, নিম্ন আদালত পুরোটাই সরকারের নিয়ন্ত্রণে। সেখানে সরকার যা নির্দেশ দেয়, বিচারকদের সেই নির্দেশ মেনে কাজ করতে হয় এবং রায় দিতে হয়। বিবেকমত রায় দিলে তাকে হয় চাকুরিচ্যুত হতে হয়, না হয় দেশছাড়া হতে হয়, তা নাহলে নানারকম মামলা-হামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রেখে সারাজীবন ক্ষমতায় থাকাই তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।

কক্সাবাজারে ‘মোরা’ ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিগ্রস্থদের দুর্ভোগ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, এখনও কক্সবাজারে কোনো ত্রাণ যায় নাই, তাদের দেখতেও কেউ যায়নি।

তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায় বিচার ও সকল মানুষের সমান অধিকার নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই অবস্থার অবসানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Facebook Comments