শিক্ষকের সঙ্গে সম্পর্কের অপবাদে স্কুলছাত্রীর ‘আত্মহত্যা’

জুলাই ০৭ ২০১৭, ২৩:৩১

ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হীরামণি তিশা (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) গভীর রাতে ভাড়াবাড়িতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্তভাবে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সে। শুক্রবার (৭ জুলাই) ভোরে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
হীরামনি তিশা (১৫) ছিল ভাঙ্গা উপজেলার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। গৃহশিক্ষকের সঙ্গে সম্পর্কের অপবাদ সইতে না পেরেই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
তিশার গ্রামের বাড়ি ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়নের শাহমুল্লগী গ্রামে। তার বাবা মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার কথা ভেবে গ্রামে না থেকে উপজেলা সদরের থানা সংলগ্ন একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। মেয়েকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ (৩৪) ও তার স্ত্রী মাহমুদা বেগমের (২৫) বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীর মা হাওয়া বিবি ভাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে ঘটনার পর থেকে আজাদ ও মাহমুদা পলাতক।
ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারের বরাত দিয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিরাজ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে ভাঙ্গা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ছাত্রীর বাসায় পড়াতে যান।

তার পিছু নেন মাহমুদা। পরে তিশার সঙ্গে স্বামীকে জড়িয়ে এবং এই সম্পর্কের জন্য মেয়েটিকেই দায়ী করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ও অপবাদ দেন তিনি।
স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আজাদ ও মাহমুদাকে সরিয়ে দেয়। কিন্তু নিজের ওপর দেওয়া অপবাদ সহ্য করতে না পেরে তিশা রাতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সহপাঠী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাইভেট পড়ানোর অন্তরালে শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ওই ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। প্রলোভন ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখাচ্ছিলেন তিনি। এ নিয়ে তার সঙ্গে স্ত্রী ঝগড়া হয়েছে একাধিকবার।

আবুল কালাম আজাদ হলেন ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের চৌকিঘাটা গ্রামের মুজিবর মুন্সীর ছেলে। একই মহল্লায় স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থাকেন তিনি। স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী, স্বামীর সঙ্গে তিশার সম্পর্কের সন্দেহে মাহমুদা একবার কলহের জেরে বাবার বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য তিনি ফিরে আসেন।

এ প্রসঙ্গে ভাঙ্গা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার হোসেন বলেন, ‘তিশা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিল। এভাবে তার চলে যাওয়া মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। মেয়েটির আত্মহত্যার সঙ্গে আমাদের স্কুলের কোনও শিক্ষক জড়িত থাকলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>