শিমুলিয়া ফেরি ঘাটে মানুষের ঢল, মহাসড়কে ৫ কি:মি: যানজট

জুন ২৪ ২০১৭, ০৯:৫৪

ঈদে ঘরমুখো মানুষ পদ্মা পাড়ি দিতে ভিড় জমিয়েছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাটে। ঈদের ছুটির ২য় দিন ভোর থেকে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে শিমুলিয়া ফেরি ঘাটে। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে সবাই এখন বাড়ির পথে। বাস, লঞ্চ, নৌকা কিংবা অন্য যে কোনো উপায়েই হোক বাড়ি পৌঁছানোই এখন একমাত্র লক্ষ্য ঘরমুখো এসব মানুষের।

শনিবার ভোর থেকে এ চাপ বাড়তে থাকায় ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়কে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যান পারাপারে হিমশিম খেতে হচ্ছে ফেরি কর্তৃপক্ষকে। যাত্রীবাহী বাসের তেমন কোন চাপ না থাকলেও প্রাইভেট ও মিনিবাসে অতিরিক্ত চাপ লক্ষ্য করা গেছে। তবে সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় তৎপর রয়েছে বলে জানান ফেরি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে লঞ্চ ও স্পিডবোটেও যাত্রীদের চাপ বেশী। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চলাচল করছে। সময় বাঁচাতে অনেকে বেছে নিয়েছেন স্পিডবোটকে। দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার শত শত যাত্রী শিমুলিয়া ঘাট দিয়ে পদ্মা পারাপার হয়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন। স্পিডবোটগুলোর অনিয়মের এখানেই শেষ নয়। নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা হলেও মানছে না অধিকাংশ স্পিডবোট। আর এ সুযোগে প্রশাসনের নির্ধারিত ভাড়ার স্থলে স্পিডবোট মালিক ও শ্রমিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।
বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক খালিদ নেওয়াজ জানান, ভোর থেকেই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ঘাট

এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৫ শতাধিক যানবাহন এখন পারাপারের অপেক্ষায়। এসব যানবাহনের মধ্যে প্রাইভেটকারের সংখ্যাই বেশি। যাত্রীবাহী যানবাহনগুলো প্রাধান্য দিয়ে পার করে দেওয়া হচ্ছে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ১৮টি ফেরি ৭৮টি লঞ্চ এবং ৩ শতাধিক স্পিটবোড চলাচল করছে।

এব্যাপারে মাওয়া নৌ-ফাড়ির এস আই সুরজিৎ চন্দ্র ঘোষ বলেন, শনিবার ভোর থেকে যানবাহনের চাপ বেড়েছে আরো বাড়তে পারে। গাড়ির চাপ বেশী তাই এ এলাকায় কিছু যানবাহন আটকা পরেছে। পরে এটা স্বাভাবিক হবে।

অপরদিকে জেলার অভ্যন্তরে  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল রাত থেকে থেমে থেমে যানজট থাকলেও শনিবারবার সকাল থেকে তা তীব্র আকার ধারণ করে। গজারিয়া অংশের প্রায় পুরোটা জুড়েই মহাসড়কের উভয় পাশে যানজট রয়েছে, সময় বাড়ার সাথে সাথে যানজটের তীব্রতা আরো বাড়ছে। প্রচন্ড গরমে দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।

ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁডড়ির ইনচার্জ হাসেম উদ্দিন জানান, শুক্রবার সারাদিন ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট ছিল। শনিবার  অতিরিক্ত গাড়ির চাপে যানজটের তীব্রতা আরো বাড়ছে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী যানবাহনের সংখ্যা আরো বেড়েছে। তবে যানজট নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টেট অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন হলেও মোঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু দুই লেন হওয়ায় যানজট বেশী হচ্ছে তবে আশাকরা যাচ্ছে বিকেলের আগেই এর নিরশন হবে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>