শেবাচিম হাসপাতালে শারিরীকভাবে চিকিৎসক লাঞ্চিত : স্টাফ নার্সসহ আটক-২

আগস্ট ০৩ ২০১৭, ২০:৫৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে বহিঃবিভাগের কর্তব্যরত আবাসিক চিকিৎসক (শিশু) কে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স এলিজা বেগম ও তার স্বামী শাহআলম ভূইয়াকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আজ বৃহষ্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে হাসপাতালের নীচতলায় বহিঃবিভাগে চিকিৎসকের ওপর ওই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক শিরিন সাবিহা তন্নী জানান, ঘটনার সময় আবাসিক চিকিৎসক(আরপি-শিশু) বহিঃবিভাগে তার কক্ষে দায়িত্বরত অবস্থায় রোগী
দেখছিলেন। এসময় এলিজা নামের ওই নার্স ও তার স্বামী শাহআলম তাদের শিশু সন্তান নিয়ে সিরিয়াল ভঙ্গ করে চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তার সন্তানকে দেখার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এসময় ডাঃ পনির তার হাতের রোগী দেখা শেষ করে দেখবেন বলে জানিয়ে তাদের অপেক্ষা করতে বলেন। পাশাপাশি তিনি রেফার্ড রোগী দেখেন বিধায় পাশের কক্ষের চিকিৎসকের কাছ থেকে রেফার্ডে কাগজ আনতে বলেন। এসময় নার্স এলিজা নিজের পরিচয় গোপন রেখে চিকিৎসককে উদ্দেশ্য করে অশালীন কথাবার্তা বলেন। পাশাপাশি মুহুর্তের মধ্যেই এলিজার স্বামী শাহআলম চিকিৎসককে শারিরীকভাবে লাঞ্চনা ও মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। পরে রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল স্টাফরা তাদের আটকে হাসাপাতাল প্রশাসনের নিকট
তুলে দেন। পাশাপাশি আহত চিকিৎসককে হাসপাতালেই ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (উপ-পরিচালক) ডাঃ আঃ কাদের জানান, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো বেগতিক অবস্থা দেখতে পান, চিকিৎসকদের মাঝে কিছুটা উত্তেজনাও বিরাজ করছিলো। ওই নার্স ও তার স্বামীকে রোগীর স্বজন ও স্টাফরা ঘিরে ফেলে উত্তমমাধ্যম দেয়ার উপক্রম হয়েছিলো। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে এলিজা ও

তার স্বামী শাহ আলমকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। তিনি জানান, প্রথমে এলিজা তার পরিচয় না দিলেও পরে সে এই হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স বলে জানায়। যা নার্সিং কতৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে। এলিজা যে সব কথা ওই চিকিৎসককে বলেছে তা ভদ্রলোক ভদ্রলোককে বলে না, চাকুরীজীবি ও চাকুরীজীবিকে বলেনা। পাশাপাশি চিকিৎসককে তারা মারধর করে রক্তাক্ত জখম
করেছে। এদিকে ঘটনার পরপরই হাসপাতালের অন্তঃ ও বহিঃ বিভাগের রেজিষ্ট্রার, সহকারী রেজিষ্ট্রার ও মেডিকেল অফিসার এবং ইনডোর মেডিকেল অফিসাররা বিক্ষোভ করে। হামলাকারীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবীতে তারা পরিচালকের কাযালয়ে অবস্থান নেয়। পরে হাসপাতাল প্রশাসনিক বিভাগের সিদ্ধান্তঅনুযায়ী এ ঘটনায় মামলা দায়েরের জন্য পরিচালকের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত দেয়া হয়েছে।

চিকিৎসক শিরিন সাবিহা তন্নী জানান, চিকিৎসককে মারধররে ঘটনার পর বহিঃবিভাগের চিকিৎসকরা রোগী দেখা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুষ্ঠ বিচার না হওয়া পর্যেন্ত তারা রোগী দেখবেন না, তবে আন্তবিভাগ ও জরুরী বিভাগ যথা নিয়মে রোগীদের সেবা প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ এসএম সারফুজ্জামান রুবেল জানান, আজকের ঘটনার অল্প সময় পরেই বহিঃবিভাগ যথা নিয়মে বন্ধ হয়ে গেছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে চিকিৎসকরা কি করবে সে বিষয়ে শনিবার খোলার দিনে বৈঠকের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ
অসীম কুমার সাহা বলেণ, এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং হামলাকারী স্টাফ নার্স ও তার স্বামীকে আটক করে পুলিশ নিয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসককে মারধরের বিষয় নিয়ে হাসপাতাল প্রশাসন ভালো ভূমিকা রেখেছেন। রোগীদের সেবা দেয়া নিয়ে কোন ধরনের ঝামেলা এ মুহুর্তে নেই, চিকিৎসকরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>