সাত খুনের আসামী হিজলা নৌ পুলিশে কর্মরতা গ্রেফতার

মার্চ ৩১ ২০১৭, ২০:৪৬

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়নগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলায় ২৭ বছর সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী এ এ সআই হাবিবুর রহমান হাবিবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বরিশালের হিজলা থানা পুলিশের সহায়তায় শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে হিজলার ট্যাক (উপজেলা সদর) নৌ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করেন নড়িয়া থানা পুলিশের একটি দল। গ্রেফতারকৃত হাবিব নড়িয়া থানার কাঞ্চনপাড়া গ্রামের আহাদ বক্সের ছেলে। নারায়নগঞ্জের ওই ঘটনার পর র‌্যাব থেকে বের হয়ে বরিশাল নৌ পুলিশে চাকুরী করছিলেন হাবিব। সাজা পরোয়ানা নিয়ে পুলিশের খাতায় পলাতক অবস্থায় এতদিন হিজলা নৌ পুলিশে কর্মরত ছিলেন হাবিব। গ্রেফতারের পরপরই হাবিবকে নড়িয়া নিয়ে যায় ওই থানার এসআই মনিরুজ্জামান ও এসআই আব্দুল বারেক। এর আগে হাবিবের সাজা পরোয়ানা গত ১৪ ফেব্রুয়ারী তার পৈত্রিক বাড়ি অর্থাৎ নড়িয়া থানায় পৌঁছে। বরিশাল নৌ পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অপরদিকে এ বিষয়ে জানতে হিজলা থানার ওসি মাসুদুজ্জামান বলেন, হিজলা পুলিশের সহায়তায় নড়িয়া থানা পুলিশ হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে। এতদিন হাবিবুর রহমান নজরবন্দী ছিলেন। হাবিবুর রহমান ছিলেন তারেক সাইদের দেহরক্ষী। সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে তিনি এএসআই হয়েছেন। বরিশালের পুলিশ সুপার আক্তারুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে এ ব্যপারে নৌপুলিশ সুপার মোতালেব হোসেনকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। নারায়নগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় গত

১৬   জানুয়ারী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন প্রধান ৪ আসামী সহ ২৬জনকে ফাঁসির দন্ডাদেশ দেন। এছাড়া ৯জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দন্ড দেয়া হয়। যাদের মধ্যে পুলিশের চোখে পলাতক পুলিশ কনস্টেবল থেকে এসআই হওয়া হাবিবকে ১৭ বছর দন্ডাদেশ দেন আদালত। উল্লেখ্য ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। আর চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে ১২ জন পলাতক ছিলেন। এদের মধ্যে হাবিবুর রহমানকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হলো। আসামিদের দেওয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও নানা সাক্ষ্য প্রমাণের উপর দীর্ঘ শুনানি শেষে মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>