সিরিয়াল কিলারদের গল্প

মে ১০ ২০১৭, ১৬:৪৩

পৃথিবীতে নৃশংস খুনের সংখ্যা একেবারে কম নয়। কালে কালে নানা ধরনের খুনির আবির্ভাব ঘটেছে, যাদের আমরা নানা নামে অভিহিত করেছি। এ রকমই একটি খুনির ধরন ‘সিরিয়াল কিলার’। যারা বিচিত্র উপায়ে ভয়াবহ ও নৃশংসভাবে একের পর এক মানুষ খুন করে। সেসব খুনের বর্ণনা দেওয়াও রীতিমতন লোমহর্ষক ব্যাপার।

 

সিরিয়াল কিলার কারা?

এ ধরনের খুনিরা একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর খুনে লিপ্ত হন। অধিকাংশ সিরিয়াল কিলার ঠাণ্ডা মাথায় প্ল্যান করে খুন করেন এবং একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীকে সব সময় টার্গেট করেন। একাধিক মানুষ হত্যার পেছনে প্রধান কারণ থাকে মনস্তাত্ত্বিক চাপ। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এর গবেষণায় দেখা গেছে সিরিয়াল কিলাররা সাধারণত রাগ, উত্তেজনা, অর্থের প্রভাব ইত্যাদি কারণে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে থাকেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় সিরিয়াল কিলাররা একই নিয়মে তাদের হত্যার কাজ করে থাকে।

উইকিপিডিয়ার মতে, পৃথিবীর প্রথম সিরিয়াল কিলার হলেন ড. হেনরি হাওয়ার্ড হোলমস (Dr. Henry Howard Holmes)। যিনি ২০০ খুন করেছেন, এর মধ্যে ৯টি নিশ্চিত, ২৭টি হত্যাকাণ্ডের কথা তিনি নিজে স্বীকার করেছেন আর বাকিগুলোর হদিস পাওয়া যায়নি। যদিও ইতিহাস বলে পৃথিবীর প্রথম সিরিয়াল কিলার হলেন লকাস্টা নামক এক নারী, যিনি রোমান সম্রাট নিরোর মা এগ্রিপিন্নার অধীনে কাজ করতেন। তার দায়িত্ব ছিল রোমের অভিজাত পরিবারের সদস্যদের বিষক্রিয়ার মাধ্যমে খুন করা যাতে কেউই নিরোর সম্রাট হওয়ার পথে কাঁটা হয়ে না দাঁড়াতে পারে।

বিশ্বের দেশে দেশে সিরিয়াল কিলারদের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের কিলারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আমেরিকার সিরিয়াল কিলাররা বেশিরভাগ সাদা বর্ণের পুরুষ, যাদের বয়স ২০-৩০ এর মধ্যে। পুরুষের পাশাপাশি মেয়েদেরও হতে দেখা যায়, তবে এর সংখ্যা খুবই নগণ্য।

সিরিয়াল কিলিংয়ের প্রকারভেদ-

১৯৭৪ সালে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) বিহেভিউরাল সাইন্স ইউনিটের নেতৃত্বে ৩৬ জন সিরিয়াল কিলারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তাদের সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে সিরিয়াল কিলিংকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়। এগুলো হলো-

১. পূর্ব পরিকল্পিত হত্যা: এই ধরনের সিরিয়াল কিলাররা খুব ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে থাকেন। এরা খুব সাবধানে শিকার

শনাক্ত করেন এবং শিকারের পেছনে যথেষ্ট সময় দেন। অধিকাংশ সময়ই তারা শিকারকে দূরে পূর্ব নির্ধারিত কোনো জায়গায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন এবং হত্যার স্থান থেকে দূরে কোথাও নিয়ে মৃতদেহটি ফেলে রেখে যান। এই ধরনের কিলাররা নিয়মিত খবর দেখেন এবং পুলিশের মাথার ঘাম পায়ে পড়তে দেখে আনন্দ পান।

২. অপরিকল্পিত হত্যা: এ ধরনের সিরিয়াল কিলাররা আসলে তেমন একটা ভয়ঙ্কর না। কারণ তারা হঠাৎ মাথা গরম করে কিংবা অতিরিক্ত নেশার বশে খুন করে ফেলেন। এতে পুলিশ খুব সহজেই তাদের শনাক্ত করতে পারে।

৩. মিশ্র: এই শ্রেণীর খুনিরা পূর্ব পরিকল্পিত উপায়ে খুন করেন আবার মাঝে মাঝে হঠাৎ করেই জেদের বশে খুন করে থাকেন।

মানুষ কেন সিরিয়াল কিলার হয়?

অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবেশ মানুষকে সিরিয়াল কিলারে পরিণত করে। শৈশবের কোনো বীভৎস স্মৃতিও মানুষকে ধারাবাহিক খুনি হতে সহায়তা করে। জন ওয়েন গ্যাসি নামের এক সিরিয়াল কিলার ৩৩ জন যুবককে হত্যা করে। তদন্তে দেখা যায় শৈশবে তার বাবা তাকে গাধা, অপদার্থ বলে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন এবং বেধড়ক পেটাতেন। একদিন রাগ করে গ্যাসির প্রিয় কুকুরটিকে গুলি করে মেরে ফেললেন। চোখের সামনে প্রিয় কুকুরের এই মৃত্যু গ্যাসিকে আমূলে বদলে দেয়।

আলবার্ট ডিস্লাভো নামের আরেক সিরিয়াল কিলার বোস্টনের ১১ জন নারী হত্যা করেন। শৈশবে তার বাবা বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে তার মায়ের হাত ভেঙে দেন যা শিশু আলবার্ট নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেন। তারপর তার বাবা সন্তানসহ তার স্ত্রীকে এক কৃষকের কাছে বিক্রি করে দেন। শৈশবের নির্মম কষ্ট তাকে সিরিয়াল কিলারে পরিণত করে।

তবে সবসময়ই যে পরিবেশের দরুণ মানুষ এমন দানব হয়ে ওঠে তা সত্য নয়। জেফেরি ডাহফার নামের এক সিরিয়াল কিলার ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের মাঝে ১৭ জন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেন। তার শৈশব আর দশটা মানুষের মতোই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ছোটবেলায় তিনি জীবজন্তু মারতে এবং মৃত জীবজন্তু সংগ্রহ করতে ভালবাসতেন। অধিকংশ ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অস্থিতিশীল সম্পর্ক শিশুদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলে, যা তাকে এই ধরনের অপরাধী হয়ে উঠতে সাহায্য করে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>