সুন্দরবনে ১২ মাসে ১২ দস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণ

এপ্রিল ২৯ ২০১৭, ১৪:৫৯

সুন্দরবনের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সক্রিয় দস্যু ‘আলিফ ও কবিরাজ’ বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে গত একবছরে ছোট-বড় মোট ১২টি  দস্যু বাহিনী র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কাছে আত্মসমর্পণ করলো।

এ বিষয়ে র‌্যাব-৮ এর উপ অধিনায়ক মেজর আদনান কবির বলেন, ‘আলিফ ও কবিরাজ’ বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে সুন্দরবনে নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটলো। সুন্দরবনে র‌্যাব কাউকে দস্যুবিত্তি করতে দেবে না। সুন্দরবন সর্বসাধারণের জন্য নিরাপদই থাকবে।

র‌্যাবের কঠোর তৎপরতার কারণে ২০১৬ সালের ৩১ মে সুন্দরবনের কুখ্যাত দস্যু ‘মাস্টার বাহিনীর’ ১০জন ৫২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩ হাজার ৯০৪ রাউন্ড গোলাবারুদসহ প্রথম আত্মসমর্পণ করে। এরপরে একই বছরের ১৪ জুলাই আরেক দস্যু ‘মজনু ও ইলিয়াস বাহিনীর’ ১১ জন ২৫টি
দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০২০ রাউন্ড গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করে।

৭ সেপ্টেম্বর ‘আলম ও শান্ত বা‌হিনী’ ১৪ জন ২০টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০০৮ রাউন্ড গোলাবারুদসহ এবং ১৯ অক্টোবর ‘সাগর বা‌হিনীর’ ১৩ জন সদস্য ২০টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৯৬ রাউন্ড বিভিন্ন প্রকার গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করে। ওই বছরে সবশেষ ২৭ নভেম্বর ‘খোকাবাবু বা‌হিনীর’ ১২ জন সদস্য ২২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০০৩ রাউন্ড গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করে।সুন্দরবনে
এরপর ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি

২৫টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও সব প্রকার অস্ত্রের প্রায় ১১০৫ রাউন্ড গোলাবারুদসহ ‘নোয়া বাহিনীর’ ১২ সদস্য র‌্যাব-৮ এর কাছে আত্মসমর্পণ ক‌রে। ২৯ জানুয়ারি ৩১টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও সব প্রকার অস্ত্রের প্রায় ১৫০৭ রাউন্ড গোলাবারুদসহ ‘জাহাঙ্গীর বা‌হিনী’র ২০ সদস্য আত্মসমর্পণ করে। পরবর্তীতে ২৯ মার্চ দস্যু ‘ছোট রাজু’ বাহিনীর প্রধান রাজুসহ ১৫ সদস্য ২১টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২৩৭ রাউন্ড তাজা গুলিসহ আত্মসমর্পণ করে।

সবশেষ ২৯ এপ্রিল দস্যু ‘আলিফ ও কবিরাজ’ বাহিনীর দু্ই প্রধানসহ ২৫ সদস্য ৩১টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১১১০ রাউন্ড তাজা গুলিসহ আত্মসমর্পণ করে।

সবমিলিয়ে ১২ মাসে মোট ১২টি বা‌হিনীর ১৩২ জন দস্যূ, ২৩৭টি অস্ত্র ও ১২ হাজার ৪৯০ রাউন্ড গোলাবারুদসহ র‌্যাব-৮ এর কাছে আত্মসমর্পণ ক‌রে। র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার উজ-জামান বলেন, যারা এখনো দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনের ফিরতে চায় তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া  হবে। সুন্দরবন এলাকা পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীল নিয়ন্ত্রণে।

পর্যটক থেকে শুরু করে সর্বসাধারণের জন্য নিরাপদ। আর দস্যুদমনে র‌্যাবের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণ করা দস্যুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সব রকমের সহায়তা দেওয়া হবে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>