সুস্বাস্থ্যে প্রাণ জুড়ানো তালশাঁস

আম খাবেন, জাম খাবেন, কাঠাল খাবেন, কিন্তু মনে মনে ভয় কেমিক্যাল দিয়ে পাকায়নি তো? না পচবার জন্য ফরমালিনে চুবিয়ে তারপর বাজারে আনেনি তো? আম কাঠালের সঙ্গে বিষ খাবার ভয় থাকলেও এই গরমের দিনে একটা ফল নিয়ে অন্তত এরকম ভয় না পেলেও চলবে। সেটা হলো তালশাঁস। একেতো স্বস্তা, খেতেও ভালো। তার উপর রয়েছে নানান রকম পুষ্টিগুণ।

আবার এ এমনই এক পদ যার উপরে না মারা যায় রঙ, না দেয়া যায় ফল পাকানোর কেমিক্যাল, না লাগে ফরমালিন। অল্প সময়ের জন্য বাজারে এলেও খুব বেশি ঘুরতে হবে না তালশাঁস কিনতে। একটু খেয়াল করলেই এখন বিভিন্ন রাস্তার পাশে বা পাড়ার মোড়েই পেয়ে যাবেন।

গ্রীষ্মের তীব্র গরম চারিদিকে। এসময় ফ্রিজ থেকে বের করে একটা তালশাঁস মুখে দিন। দেখবেন আপনার তৃষ্ণা উধাও হবে নিমিষেই। আর পুরোটাই প্রকৃতিক খনিজ আর খাদ্যগুণে ভরা। চাইলে শরবত করেও খেতে পারেন তালশাঁস।

ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলো থেকেই মূলত ঢাকায় আসে তালশাঁস। আর তাই সতেজ কোমল, নির্ভেজাল রসে ভরা শীতল তালশাঁসের দামটাও হাতের নাগালের মধ্যেই। ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় একটি সম্পূর্ণ কচি তাল ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হয়। আর আলাদাভাবে একটি আঁটি বিক্রি হয় ৫-৭ টাকায়। ঢাকার বাইরে অবশ্য ১০-১৫ টাকায় একটি গোটা তালই পাওয়া যাবে। সাধারণত বিক্রেতারা ক্রেতার সুবিধার জন্য তালের মধ্যে রেখেই তালশাঁস কেটে দেন, আবার আলাদা করে তুলেও দেন। বাসায় নিয়ে ধুয়ে ছুরি দিয়ে উপরের সাদা অংশ তুলে নিলেই খাওয়ার জন্য তৈরি মিষ্টি স্বাদের মোহনীয় ঘ্রাণ আর রসে ভরা তালশাঁস।

পুষ্টিগুণ:

তালশাঁসের পুষ্টিগুণ

নিয়ে বলেছেন জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটালের এর ডায়েট ও নিউট্রিশন কনসালটেন্ট আয়েশা সিদ্দীকা। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতি ১০০ গ্রাম তালশাঁসে রয়েছে ৮৭ গ্রাম কিলোক্যালরি, ৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, জলীয় অংশ ৮৭.৬ গ্রাম, আমিষ ০.৮ গ্রাম, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেটস ১০.৯ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১ মিলিগ্রাম, থায়ামিন .০৪ গ্রাম, রিবোফাভিন ০.০২ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ০.৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৫ মিলিগ্রাম।

সুস্বাস্থ্যের জন্য তালশাঁস:

আয়েশা সিদ্দীকা বলেছেন, ‘তালশাঁস শরীরে জন্য নানান কারণে উপকারি। সুস্বাস্থ্যের জন্য তালশাঁস খাওয়া যেতে পারে। তালশাঁসে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে প্রচুর আঁশ থাকায় (ডায়েটারি ফাইবার) হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। তাই লিভারের সমস্যা দূর করতে দারুন কাজ করে তালশাঁস।

গরমের দিনে তালশাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানিশূন্যতা দূর করে। দেহকে রাখে ক্লান্তিহীন। বমিভাব ও বিস্বাদ দূর করতেও ভূমিকা রাখে। এর ভেতরের পুষ্টি উপাদান ত্বক কোমল করে আর ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স খাবারের রুচি বাড়ায়। তালশাঁসে থাকা ভিটামিন ‘এ’ দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। ক্যালসিয়াম হাঁড় গঠনে সহায়তা করে।’

তালশাঁসের শরবত:

তালশাঁস দিয়ে শরবত হয়, এটা জানেন কি? রেসিপিটা খুবই সহজ। ব্লেন্ডারে পরিষ্কার পানি নিন আধা লিটার। তার সাথে চারটা মাঝারি সাইজের তালশাঁস পরিষ্কার করে নিয়ে নিন। সাথে দুই টেবিল চামচ চিনি আর এক চিমটি লবণ। ব্লেন্ডারে অন্তত পাঁচ মিনিট ব্লেন্ড করুন। তালশাঁস পানির সাথে মিশে সুন্দর একটি মিশ্রণে রূপ নেবে। এবার শরবত গ্লাসে ঢেলে বরফকুচি দিয়ে পরিবেশন করুন। স্বাদ নিন অতুলনীয় এক পানীয়ের।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>