স্ত্রীর যৌতুক মামলায় বিএম কলেজের প্রভাষক সিলেটের কারাগারে

জুলাই ১৪ ২০১৭, ২৩:৩৫

বরিশাল বি.এম কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো: মনিরুল ইসলামকে তার প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুকের মামলায় জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট প্রথম আদালত। বুধবার (১২ জুলাই) সকাল ১১ টায় মো: মনিরুল ইসলাম আদলতে উপস্থিত হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করিলে মাননীয় আদালত তাহার জামিনের আবেদন না মন্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, মো: মনিরুল ইসলাম এবং এই মামলার বাদীনি নাজনিন খান ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সিলেট নগরীর একটি প্রাইভেট কলেজে একই সাথে শিক্ষকতা করার সময় তাদের মধ্যে ভালবাসার সর্ম্পক গড়ে উঠে। সেই সুবাদে তারা বিগত ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর ৫ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্যক্রমে কোর্ট ম্যারেজ করেন। পরবর্তীতে মো: মনিরুল ইসলাম ৩৩ তম বি.সি.এস উর্ত্তীণ হয়ে বরিশাল চলে গেলে বাদীনির সহিত তার বৈবাহিক সর্ম্পককে অস্বীকার করেন। বিষয়টি নিয়ে বাদীনি অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত সিলেটে একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলার তন্তত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য দলিলাদি পর্যালোচনা করিয়া মাননীয় আদালত উভয়ের মধ্যে বৈধ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে অভিমত ব্যক্ত করে মামলাটি নিস্পত্তি করেন। এই

মামলার পর বাদীনি মো: মনিরুল ইসলাম ও তার পরিবারকে বিবাহের ধর্মীয় আনুষ্ঠানীকতা সম্পন্ন করার চাপ প্রয়োগ করিলে মনিরুল এবং তার পরিবার উল্টো বাদিনীর কাছে ২০ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ফলে বাদীনি আবারও আদালতের দারস্থ হয়ে ২০১৭ সালে ৬ এপ্রিল সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট প্রথম আদালতে মো: মনিরুলের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর শাহপরান সি.আর.১০১/১৭। উক্ত মামলাটি আমলে গ্রহণ করে আদালত আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন। আসামী মনিরুল ইসলাম ১৫ জুন আদালতে আসিয়া জামিনের আবেদন পত্র ও উকালতনামায় ভিন্ন স্বাক্ষর প্রদান করিয়া বিবাহের হলফনামার স্বাক্ষরটি তাহার নয় দাবি করিয়া জামিন প্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ১২ জুলাই ২০১৭ তারিখে আসামী মো: মনিরুল আবারও আদালতে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করিলে আদালত তাহার আইডি কার্ড এবং কর্মস্থলের পরিচয় পত্রের স্বাক্ষরের সহিত বিবাহের হলফ নামার স্বাক্ষর অনুরুপ বলিয়া সনাক্ত করেন এবং তাহার স্থায়ী জামিনের আবেদন না মন্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে, মো মনিরুল ইসলাম বিগত ২৫ মে ২০১৬ ইং তারিখে বরিশালে পূনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলে আদালতের কাছে স্বীকার করেন।

Facebook Comments