স্পিনিং মিল বন্ধ ঘোষণায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ

জুলাই ১৫ ২০১৭, ০০:৪৩

ডেস্ক রিপোর্টঃ হঠাৎ করে  মাদারীপুর প্রশাসন থেকে মাদারীপুরের একমাত্র স্পিনিং মিল ঝৃ বন্ধ ঘোষণা করায় মিলের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এসময় প্রায় আধা ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবোরোধ করে শ্রমিকরা। পরে স্থানীয় প্রশাসন আশ্বাস দিয়ে শ্রমিকদের মিলের ভিতরে নিয়ে যায়। এরপর শ্রমিকরা মিলের ভেতরেই অবস্থান ধর্মঘট করে।

দুপুর দেড়টার দিকে প্রশাসন থেকে ঘোষণা আসে ঋনের টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত মিল বন্ধ থাকবে। এর পরই পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে এতে দুই পুলিশসহ আহত হয় ২০ জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জান গেছে, ১৫ কোটি টাকা ঋনের দায়ে সরকার এই মিলটি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। মাদারীপুর স্পিনিং মিলে তিন সিফটে প্রায় ২ হাজার  কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক কাজ করে। তারা প্রায় আড়াই মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছে না। এ অবস্থায় হঠাৎ করে শুক্রবার মিল বন্ধ ঘোষণা করায় শ্রমিকরা অসহায় হয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিক-কর্মচারীরা মিল চালু রাখার দাবিতে কাজ রেখে সকাল থেকে মাদারীপুর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মস্তাফাপুরের বড়ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এতে প্রায় দুই পাশে কয়েকশ’ যানবাহন আটকা পরে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সড়ক অবরোধ তুলে নিয়ে মিলের ভেতরে বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট করতে থাকে। এ সময় পুলিশ শ্রমিকদের

উপর লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়। মিল শ্রমিকদের দাবি, মাদারীপুরে স্পিনিং মিল বন্ধ করা যাবে না। মিল বন্ধ হলে প্রায় ২ হাজার শ্রমিক কর্মচারী বেকার হয়ে পড়বে। এ মিলের সিংহভাগ নারী শ্রমিক, যারা একেবারেই অসহায়।

মিলের শ্রমিক কোহিনুর, মাজেদা, রহিমা, সাজেদা, মাহিনুর, সাহিনুরসহ একাধিক নারী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের অনেকের স্বামী নাই, এখানকার বেতন দিয়ে সংসার চালাই, সন্তানদের পড়াশুনা করাই, বহু অসহায়  মেয়ে আছে তারা এই মিলে কাজ করে ভিক্ষা করে না। আমরা জানি এই সরকার শ্রমিকবান্ধব সরকার। আমাদের এভাবে অসহায় অবস্থায় ফেলে দেবে না। আমরা যে কোন অবস্থাতেই এই মিল বন্ধ হতে দেবো না। ’

মাদারীপুর স্পিনিং মিলের ডিজিএম আলী আকবর বলেন, ‘আমাদের কোন নোটিশ ছাড়া হঠাৎ করে মাদারীপুর প্রশাসন মিল বন্ধ করতে বলে। আমরা অফিস থেকে শ্রমিকদের একথা জানালে তারা আন্দোলনে নেমে পড়ে। আমরা তো অসহায় হয়ে পড়ি। আমরা এখনো আড়াই মাসের বেতন শ্রমিকদের দিতে পারি নাই। এখানে এক একটি শ্রমিক একটি পরিবার নিয়ে বেঁচে আছে। আর আমরাই বা কি করবো। ’

মাদারীপুর অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন দেব বলেন, ঋনের দায়ে মিল বন্ধের নির্দেশ দিলে শ্রমিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ এবং সড়ক আবরোধ করে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>