স্বীকৃতি চান বাবুগঞ্জের ৭ বীর মুক্তিযোদ্ধা

আপডেট : June, 7, 2017, 6:30 pm

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও দীর্ঘ ৪৬ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামের সাত বীর যোদ্ধা। তাদের প্রায় সবারই মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গনি ওসমানীর সার্টিফিকেট এবং ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সনদ থাকলেও কেবল তদবিরের অভাবে এখনো মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্ত হতে পারেননি। এমনকি সহযোদ্ধাদের প্রত্যয়নসহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র দাখিল করার পরেও সদ্য মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের সাত বীর মুক্তিযোদ্ধা। উপজেলার নতুন হাট এলাকায় গতকাল বুধবার বিকেলে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পল্লী চিকিৎসক ডাঃ সেকেন্দার আলী হাওলাদার। এসময় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম তামিদার, মোঃ কাঞ্চন সরদার, হারুনুর রশিদ, আব্দুস সাত্তার ফকির, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা রহিম হাওলাদারের স্ত্রী রুনা বেগম ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদেরের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম উপস্থিত ছিলেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে সাত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন। এসময় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম তামিদার, সেকেন্দার আলী হাওলাদার ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম হাওলাদারের স্ত্রী রুনা বেগম অভিযোগ

করেন, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গনি ওসমানীর সার্টিফিকেট ও ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সনদসহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র থাকলেও কেবল তদবির এবং দাবিকৃত উৎকোচ দিতে না পারায় সদ্য যাচাই-বাছাইতে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান প্রিন্স জানান, মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্তি নিয়ে সারাদেশে অর্থবাণিজ্যের ঘটনা এখন ওপেন সিক্রেট। বাবুগঞ্জেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এখানে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে বাতিল “গ” তালিকার আবেদনকারীকে নির্বাচিত “ক” তালিকায় আনা হয়েছে। আবার দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনিসুর রহমান সিকদার বলেন, অর্থের বিনিময়ে “ক” তালিকাভূক্তির অভিযোগ অবান্তর। যারা সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সহযোদ্ধাদের স্বাক্ষী উপস্থিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন কেবল তাদের আবেদনপত্রই বাছাই কমিটির ৭ জন সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বাছাই কমিটির সদস্য সচিব দীপক কুমার রায় জানান, যারা মুক্তিযোদ্ধা দাবির স্বপক্ষে নিজের প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র উপজেলা কমিটির কাছে দাখিলে ব্যর্থ হয়ে বাতিল হয়েছেন তাদের এখনো আপীল করার সুযোগ রয়েছে। তারা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বরাবরে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ আপীল করতে পারবেন।

 

Facebook Comments