‘১০ দিনে বাংলাদেশে ঢুকেছে ৯০ হাজার রোহিঙ্গা’

সেপ্টেম্বর ০৪ ২০১৭, ১৮:১৭

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আগস্টের শেষ দিকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১০ দিনে প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। তারা আশ্রয় নিয়েছে টেকনাফ ও উখিয়ার উপকূলীয় এলাকায়।

বিভিন্ন দাতা সংস্থা, সংগঠন ও স্থানীয় লোকজন অসহায় ওই রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের উত্তরপশ্চাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট পুলিশের বেশ কিছু চৌকিতে হামলার পর সেখানে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসব হামলার জন্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দায়ী করে সেখানে চালানো সেনাবাহিনীর অভিযানে অন্তত ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে।

রাখাইনে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া ও বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা জঙ্গিদের দায়ী করলেও সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছে, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটি থেকে রোহিঙ্গাদের বিতারিত করার চেষ্টা করছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেসামরিক রোহিঙ্গা নাগরিকদের রক্ষা করতে বাংলাদেশ, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের মতো বিশ্বের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর পক্ষ হতে শান্তিতে নোবেলজয়ী মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।

মিয়ারমার কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে লড়ছে, যারা গত অক্টোবরে থেকে দেশটির পুলিশ পোস্ট ও সেনাবাহিনীর ওপর হামলার জন্য দায়ী।

বাংলাদেশের কক্সবাজারে কর্মরত

জাতিসংঘের কর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাপ্ত সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

চার দিন আগে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মোহাম্মদ হুসেইন (২৫) বলেন, ‘আমরা এখানে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছি, কিন্তু পর্যাপ্ত জায়গা পাচ্ছি না।’

তিনি বলেন, ‘কোনো বেসরকারি সংস্থা এখানে আসেনি। আমাদের কাছে কোনো খাবার নেই। কয়েকজন নারী রাস্তার পাশেই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। অসুস্থ শিশুরা কোনো চিকিৎসা পাচ্ছে না।’

গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমারে সহিংসতা দেখা দেওয়ার পর কক্সবাজারে তৈরি হওয়া অস্থায়ী একটি রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র এখন বেশ বড় আকার ধারণ করেছে। মিয়ানমার থেকে নতুন করে পালিয়ে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গা এই ক্যাম্পে আশ্রয় নিচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলি হোসেন রয়টার্সকে বলেন, নতুন করে আসা রোহিঙ্গারা নতুন ক্যাম্প বানানো চেষ্টা করছে। তবে সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের বাধা দিচ্ছে না অথবা এরই মধ্যে বানানো ক্যাম্প ভেঙে দিচ্ছে না।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানমারে নতুন করে সংহিস পরিস্থিতি সৃষ্টির পর থেকে এ পর্যন্ত তারা নাফ নদী থেকে ৫৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। এসব মৃতদেহের অনেকগুলো মিয়ানমার থেকে ভেসে এসেছে এবং মৃতদেহগুলোতে গুলি ও ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>