১৫ লাখ নতুন ও সাত লাখ মৃত ভোটারের তথ্য সংগ্রহ

ভোটার তালিকা হালনাগাদে তথ্য সংগ্রহের কাজ গতকাল বুধবার শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ৭ আগস্ট সোমবার পর্যন্ত সারাদেশ থেকে পাওয়া তথ্য সমন্বয় করে ২২ লাখ ভোটারের তথ্য সংগ্রহের হিসাব পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১৫ লাখ নতুন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও বাকি সাত লাখ তালিকায় থাকা মৃত ভোটারদের নাম সংগ্রহ করা হয়েছে।
আগামী ২০ আগস্ট থেকে নতুন ভোটারদের নিবন্ধনের কাজ শুরু হবে। ২০ আগস্ট থেকে ইসির নির্ধারিত নিবন্ধন কেন্দ্রে নতুন ভোটারদের ছবি তোলা ও নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে বিদ্যমান ভোটার তালিকা থেকে মৃত সাত লাখ ভোটারের নাম কর্তন করা হবে। তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া থেকে ভোটারযোগ্য কারও নাম বাদ পড়লে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে সরাসরি নিবন্ধন কেন্দ্রে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
গত ২৫ জুলাই থেকে দেশজুড়ে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, মৃতদের বাদ দেয়া ও ভোটারের ঠিকানা স্থানান্তরের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ গতকাল বুধবার শেষ হয়। এ সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা। যদিও ইসি এবার ৩৫ লাখ নতুন ভোটারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। মাঠ পর্যায় থেকে দু’দিনের হিসাব এখনও কমিশনে না পৌঁছালেও ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন- এবার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নাও হতে পারে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের তালিকায় ১০ কোটি ১৮ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে।
সারাদেশে থেকে পাওয়া ইসির হিসাবে দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি ঢাকায় নতুন ভোটারের তথ্য
সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। সবচেয়ে কম তথ্য সংগ্রহ হয়েছে বরিশাল অঞ্চলে। নতুন ভোটার হতে আগ্রহীরা নিবন্ধন ফরম পূরণ করেছেন ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৭১১ জন। ঢাকা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ২ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৩ জন ফরম পূরণ করেছেন। বরিশাল অঞ্চলে সবচেয়ে কম ৫৭ হাজার ২৫৮ জন নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ হয়েছে। মৃত ভোটারের তথ্য মিলেছে সবচেয়ে বেশি রাজশাহী অঞ্চলে এক লাখ ৯ হাজার ৯১০ জন, আর সবচেয়ে কম বরিশাল অঞ্চলে ৩২ হাজার ৩৩২ জন। ঠিকানা স্থানান্তরের জন্য আবেদন করেছেন মোট ৩৬ হাজার ৩৪১ জন নাগরিক। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হচ্ছে, তাদের ভোটার করা হচ্ছে এবারের হালনাগাদে। এর আগে নির্বাচন কমিশন ২০১৫ সালের হালনাগাদে ১৫ বছর বয়সীদেরও তথ্য সংগ্রহ করেছিল, যারা ২০১৮ সালে ভোটার হওয়ার যোগ্য হচ্ছেন। তাদের নাম এ তালিকায় যুক্ত হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। ২০১৭ ও ২০১৫ সালের তথ্য নিয়ে এবার অন্তত ২৫ লাখ নাম যোগ হবে ভোটার তালিকায়।
আগামী ২০ আগস্ট থেকে নিবন্ধন কেন্দ্রে শুরু হবে ছবি তোলাসহ ভোটার নিবন্ধনের কাজ। হালনাগাদ শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ৩১ জানুয়ারিতে, যারা একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ জানিয়েছেন, বুধবারের পর তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি আর যাবেন না। তবে ভোটারযোগ্য কেউ বাদ পড়লে নিবন্ধন কেন্দ্রে গিয়ে ভোটার হওয়ার আবেদনের সুযোগ পাবেন।
Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>