৩১ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি স্কুল, ৯ শিক্ষার্থীর জন্য ৫ শিক্ষক

জুলাই ০৫ ২০১৭, ২৩:১৩

রহিম রেজা, ঝালকাঠি: ঝালকাঠির রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়নের ১১২ নং চর পালট স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা আক্তারের বিরুদ্ধে ওই স্কুল মেরামত ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ৩ দফায় বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকার কোন কাজ না করে আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া বর্তমানে ওই স্কুলের কাগজপত্রে মাত্র ৩১ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বুধবার সোয়া ১১টার দিকে তিন শ্রেণিতে মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত পাওয়া গেছে। এ ৯ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাতে ওখানে ৫ শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত রয়েছেন। চল্লিশকাহনিয়া লঞ্চঘাটের ওপাড় বিষখালি নদীর তীরে অবস্থিত এ স্কুলের জরার্জিণ ভবন, দুই কক্ষ বিশিষ্ট স্কুলের অফিস কক্ষ নেই, এক কক্ষে নাম মাত্র টেবিল চেয়ার ও বেঞ্চ থাকলেও একটি কক্ষে স্বাস্থ ঝুঁকি নিয়ে মেজেতে পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষক এবং মাঠে প্রধান শিক্ষিকার স্বামী হালিম বিশ^াস কচুক্ষেতসহ বাগান করায় সার্বিক দিক মিলিয়ে করুন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতির খবর শুনে বুধবার সোয়া ১১টার দিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে ওই স্কুল পরিদর্শনে ছুটে যান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান। এসময় রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাব’র প্রতিষ্ঠাতা রহিম রেজা, সাংবাদিক আলমগীর শরীফ উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিমাদ্রি শেখর দেবনাথ, ও বড়ইয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি গোলাম মোস্তফা মহারাজ সাথে ছিলেন। তারা গিয়ে ওই স্কুলের শিশু শ্রেনিতে ৩ জন, ১ম শ্রেনিতে ৩ জন ও ২য় শ্রেনিতে ৩জনসহ ৩ শ্রেণিতে মাত্র ৯জন শিক্ষার্থী দেখতে পান। কাগজে কলমে ওই স্কুলে শিশু শ্রেণিতে ৭জন, ১ম শ্রেণিতে ৫জন, ২য় শ্রেণিতে ৪জন, ৩য় শ্রেণিতে ৭জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ৩জন ও ৫ম শ্রেণিতে ৫জনসহ মোট ওই স্কুলে মাত্র ৩১ জন

শিক্ষার্থী রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকা সত্তে¦ও ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য ৫টি শিক্ষক কোঠায় ৫জনই কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সহকারি শিক্ষকরা সঠিকভাবে স্কুলে পাঠদান করালেও প্রধান শিক্ষিকা স্থানীয় হওয়ায় তিনি স্কুল চলাকালিন সময়ে স্কুলে সঠিকভাবে না এসে বাড়িতে পারিবারিক কাজে ব্যস্ত থাকনে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের (স্লিপ) জন্য দুই বারে ৮০ হাজার ও স্কুল মেরামতের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ইতোমধ্যে উপজেলার অধিকাংশ স্কুলে এসব বরাদ্দের ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও চর পালট স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা আক্তার কোন কাজ না করে মোট ২ লাখ টাকা আত্মসাত করেন। ফলে স্কুলে টেবিল চেয়ার ও বেঞ্চ নেই বললেই চলে। এরকমভাবে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের বরাদ্দকৃত টাকার কাজ না করিয়ে আত্মসাত করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ১১২ নং চর পালট স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, রোজায় স্কুল বন্ধ থাকা, মিস্ত্রী না পাওয়া এবং বিদ্যুতের লোকজন ওই স্কুলে অবস্থান করায় বরাদ্দকৃত অর্থের কাজ করা যায়নি, বৃহস্পতিবার থেকেই বরাদ্দ অনুয়ায়ী কাজ শুরু করা হবে। এবিষয়ে উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিমাদ্রি শেখর দেবনাথ জানান, পরির্দশনকালে বেশকিছু অসংগতি পরিলক্ষিত হলে স্কুলটি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রধানশিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলে সর্তক করা হয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান জানান, ওই স্কুলে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকায় পরিদর্শনে গিয়ে সমস্যা সমাধানে তাদের পরামর্শ দেয়া হয়। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিলেও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন স্কুল পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করা হবে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>