৫৫ বছর ধরে খুঁড়িয়ে চলছে বরিশাল বিসিক নগরী

এপ্রিল ১১ ২০১৭, ১৫:২৬

নানা সংকোটে ৫৫ বছর ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বরিশালের বিসিক শিল্পনগরী। এখনো অধিকাংশ প্লট অব্যবহৃত রয়েছে। আবার বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলোর মধ্যেও অর্ধেকের বেশি বন্ধ হয়ে গেছে।

উদ্যোক্তারা জানান, এই শিল্পনগরীতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ-পানিসহ শিল্পের জন্য সহায়ক অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নেই। বর্তমানে অল্পসংখ্যক শিল্পকারখানা এখানে চালু আছে।

বিসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৬০-৬১ সালে বরিশাল শহরের লাকুটিয়া এলাকায় প্রায় ১৩১ একর জমিতে গড়ে তোলা এই শিল্পনগরীর ৪৪৬টি প্লটের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৭৫টি। তবে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হয় ১৭১টিতে। এর মধ্যে বর্তমানে চালু আছে মাত্র ৭৬টি কারখানা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিল্পনগরীর সড়ক বেহাল, অনেক স্থানেই বড় বড় গর্ত। এসব সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যান চলাচল করতে পারে না। দেয়াল বা নিরাপত্তাপ্রাচীরের পলেস্তারা খসে পড়েছে। অনেক স্থানে তো দেয়াল ভেঙে গেছে। পয়োনিষ্কাশন নালাগুলোর সংস্কার নেই। পানি ও বিদ্যুতের সমস্যা প্রকট। এসব কারণে এখানে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

রপ্তানিমুখী পাদুকা প্রস্তুতকারক ফরচুন শুজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশাল অঞ্চলে শিল্পায়নের সম্ভাবনা দ্রুত বাড়ছে। অথচ পুরোনো এই শিল্পনগরীর পরিবেশ ও অবকাঠামো এত দিনেও ব্যবসাবান্ধব নয়।

তিনি জানান, প্রতিদিন পিক

আওয়ারে এখানে তিন ঘণ্টা লোডশেডিং চলে। ওই সময় নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে হয়। পানির পাম্পটি বেশ কয়েক দিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। সচল থাকার সময়ও এটি থেকে প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যেত না। এসব কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ অনেকটা বেড়ে যায়।

হাওলাদার বোর্ড ও প্যাকেজিং মিলের উদ্যোক্তা আবুল বাশার বলেন, ‘এখানে শিল্পের জন্য সহায়ক কোনো সুযোগ-সুবিধা আমরা পাচ্ছি না। দক্ষ শ্রমিক না থাকায় বাইরে থেকে শ্রমিক এনে কাজ চালাতে হয়। আমাদের এলাকায় প্রচুর জনবল আছে, কিন্তু তাদের কাজে লাগাতে হলে দক্ষ করে তুলতে হবে। এ জন্য বিসিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে উদ্যোগ নিতে পারে।’

বরিশাল বিসিকের কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, পাঁচ দশকের বেশি সময়েও এটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পনগরী হয়ে না ওঠার বড় কারণ ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে নানা জটিলতা। এর ওপর বিদ্যুৎ ও পানির বিলের ক্ষেত্রে তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধাও পাওয়া যায় না।

তিনি আরো জানান, এখানে যে ৭৬টি কারখানা চালু আছে, সেগুলোর জন্য প্রতিদিন ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। অথচ পাওয়া যায় মাত্র ১ মেগাওয়াট। তবে বিদ্যুতের এ সমস্যা সমাধানে এখানে আলাদা একটি সাবস্টেশন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সূত্র: প্রথম আলো

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>