৫ মিনিটের পথ ভোগাচ্ছে বরিশাল নগরীসহ ৫ জেলার মানুষকে

আপডেট : May, 27, 2017, 10:30 am

বরিশালে ভাঙাচোরা এক কিলোমিটার সড়ক নগরবাসী ও পাঁচ জেলার মানুষকে ভোগাচ্ছে। নগরের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সাগরদীর আমতলা মোড় পর্যন্ত সড়কের এ অংশ এতই বেহাল যে প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে।

বরিশাল নগরের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় যাওয়া-আসার জন্য ওই সড়ক ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড অন্যতম। এ ছাড়া দক্ষিণের পাঁচ জেলা বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি থেকে বিভাগীয় শহরে, ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ সড়ক। সড়কের এ অংশ বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকলেও এটি ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের আওতায় হওয়ায় এটি দেখভাল করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।

সড়কের পাশের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, আমতলা মোড় থেকে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় এ অংশ খানাখন্দে ভরে গেছে। খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। এ সময় পথ চলতে পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম হওয়ায় এ সড়কে দিন-রাত হাজারো যানবাহন চলাচল করে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সড়কটিতে তীব্র যানজট হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে খানাখন্দ। সড়কের অনেক জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে। স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচল করতে না পারায় সড়কের এ অংশে তীব্র যানজট হচ্ছে।

সাগরদী বাজার

এলাকার ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, ‘ভাঙাচোরা সড়কে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। পথচারীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি আমাদের ভোগান্তি হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যে।’ নজরুল ইসলাম নামে প্রাইভেট কারের এক চালক বলেন, ‘সড়কটির এক কিলোমিটার এলাকা দুর্ঘটনার ফাঁদে পরিণত হয়েছে। তিন-চার মিনিটের এ পথ পার হতে ২০-২৫ মিনিট আবার কখনো আধা ঘণ্টারও বেশি লাগে।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বললেন, ‘প্রতিদিন আমাদের এই সড়ক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। আসা-যাওয়ার সময় যখনই এই পথটুকুর কথা মনে পড়ে, তখনই মনটা খারাপ হয়ে যায়। বিরক্তি আর তিক্ত অভিজ্ঞতা এখানে আমাদের।’

বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী নিশাত জাহান বলেন, ‘রূপাতলী হাউজিং থেকে আমাকে কলেজে যাতায়াত করতে হয়। সড়কের এই অংশ বেহাল হওয়ায় ভোগান্তি ছাড়াও আমাদের বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।’

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক মাহাবুবুর রহমান বলেন, বেহাল সড়কে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় অন্তঃসত্ত্বা নারীদের। কারণ জরুরি মুহূর্তে অথবা গুরুতর অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁদের হাসপাতালে আনতে হয়। অন্যান্য রোগীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বরিশাল মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) উত্তম কুমার পাল বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি এমনিতেই অপ্রশস্ত, তার ওপর ভাঙাচোরা। এ জন্য এ অংশে খুব যানজট হচ্ছে। যানবাহন নিয়ন্ত্রণে আমাদের অতিরিক্ত জনবল (ট্রাফিক) নিয়োগ করতে হয়।’

জানতে চাইলে সওজের বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এইচ গোলাম মোস্তফা বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের ওই অংশ পুনর্নির্মাণ ও দুই পাশ প্রশস্তকরণের কাজ করা হবে।

Facebook Comments