৬ মাস পানির নিচে বিল অঞ্চলের জমি, অভাব-অনটনে লাখো কৃষক

অক্টোবর ২০ ২০১৭, ২১:৩৩

ভূ-প্রকৃতিগত কারণেই বরিশাল জেলার উজিরপুর, আগৈলঝাড়া ও বানারীপাড়া এবং পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলায় বিস্তির্ন কৃষিজমি বর্ষার ৬ মাস পানিতে তলিয়ে থাকে। এই সময়ে জমিতে কোন চাষাবাদ হয়না।

তাই শীত মৌসুমে শুধু ইরি ধান চাষ করেই সারা বছর সন্তুষ্ট থাকতে হয় এই এলাকার লাখো কৃষককে। বছরের বাকি সময় বিলের পানিতে মাছ শিকার, শাপলা তুলে বিক্রি, সবজী-পোল্ট্রি-মাছের ঘের করে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেকে। কেউ কেউ আবার রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে রোজগার করেন। এত কিছু করেও অভাব-অনটন পিছু ছাড়ছেনা বরিশালের বিলের মানুষের। যদিও বিলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে একনেকে ৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প পাশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নিম্নাঞ্চল হওয়ায় প্রতি বছর বৈশাখের শেষ দিকে বৃষ্টির পানি জমে উজিরপুর, আগৈলঝাড়া ও বানারীপাড়া, নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলায় বিস্তির্ন কৃষিজমিতে। এর আগেই কৃষকরা কোনমতে তাদের একমাত্র ইরি ফসল ঘরে তোলেন। এরপর বৃষ্টি যত বাড়ে বিলও তত থৈ থৈ করে পানিতে। বেরী বাঁধের ভেতরের পানি নেমে যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় কার্তিক মাস পর্যন্ত বিস্তির্ন বিল তলিয়ে থাকে ২-৪ ফুট উচু পানিতে।

এ সময় বিল ভরে যায় বিভিন্ন আগাছা এবং লাল, নীল ও সাদা শাপলায়। পানি জমে থাকায় বিলের জমিতে কোন কৃষি ফসল ফলাতে পারেন না কৃষক।

জেলার উজিরপুরের কালভিলা বিলের বাসিন্দা মতিলাল রায় বলেন, প্রতি বছর জৈষ্ঠের শুরুতে বিলে পানি আসে। পৌষ মাসে পানি শুকিয়ে যায়। মধ্য মাঘের মধ্যে বিলের জমিতে ইরি ধান চাষ করেন তারা। একটি মাত্র ফসল হওয়ায় বছরের বাকিটা সময় বেকার থাকতে হয় তাদের।

এই সময়ে কেউ

বিলের পানিতে মাছ শিকার, কেউ শাপলা তুলে বিক্রি, কেউ রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে, কেউ আবার দূরদূরান্তে ছোট খাটো ব্যবসা কিংবা দিনমজুরী করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা মিলন বাড়ৈ।

জমিতে ফসল ফলাতে না পাড়ায় স্থানীয়ভাবে শ্রমিকের চাহিদাও থাকেনা বর্ষার ৬ মাস। তাই পরিবারে অর্থের যোগান দিতে এ অঞ্চলের গৃহবধূরা বাড়ির আঙিনায় শাক-সবজি উৎপাদন এবং হাঁস-মুরগী পালন করেন বলে জানিয়েছেন গৃহবধূ ঝর্না বাড়ৈ। এছাড়া অনেকে বিলের মধ্যে ঘের করে মাছের চাষও করেন বলে তিনি জানান। এতেও বিলের মানুষের দুঃখ ঘোচেনা বলে আক্ষেপ গৃহবধূ ঝর্নার।

ওই গ্রামের বাসিন্দা সুখলাল বাড়ৈ বলেন, তারা সরকারের কাছে কোন সাহায্য চাননা। তারা চান খাল খনন করে-স্ল্যুইচ গেট নির্মান করে বিলের পানি নিষ্কাশন করা।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বিল অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ১৯৮৮-৮৯ সালে সাতলা-বাগধা প্রকল্পের আওতায় ১২১ কিলোমিটার দীর্ঘ বেরী বাঁধ, ৩০টি স্ল্যুইচ গেট, ৩৭২টি ইনলেট স্ট্রাকচার, ৬৯টি ক্লোজার নির্মাণ করা হয়। গত প্রায় ২৭ বছরে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় কোন বরাদ্দ না থাকায় বেরী বাঁধ প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন না বিলের মানুষ।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রমজান আলী প্রামানিক জানান, উজিরপুরের বিলাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প একনেকে জমা দেওয়া আছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ৩২ কিলোমিটার খাল পুনখনন, ১৩টি স্ল্যুইচ ও ১৭ কিলোমিটার বেরী বাঁধ মেরামত এবং ২৪টি নতুন ইনলেট নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিলের মানুষের কৃষি উৎপাদনে সমস্যা কেটে যাবে বলে আশা করেন তিনি।
সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments