বরিশাল, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং। সর্বশেষ আপডেট: ১ মিনিট আগে
শিরোনাম

লাইভ রিপোর্ট


বরিশাল সিটি নির্বাচনঃ এগিয়ে আছে বামপন্থিরা!

ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭ ৪:২৮ অপরাহ্ণ
আগামী ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে মেয়র প্রার্থী নিয়ে আলোচনা-সমালচনা।
একইসাথে চলছে প্রার্থী নির্ধারনে চলছে রাজনৈতিক মহলে চুল ছেড়া বিশ্লেষণ। তবে এবারের নির্বাচনী হাওয়া শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ আবার বিএনপি’র মধ্যেই সিমাবদ্ধ থাকছে না।
কেননা দলীয় প্রতীকে প্রথম বারের মত অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বামপন্থিরাও ভোটের মাঠে নেমে পড়েছেন।
আওয়ামীলীগ,বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টি’র মতো প্রথমসারীর দলগুলো প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি।তবে প্রথমসারীর  দলগুলোর আগেই ঘোষনা করা হয়েছে সিপিবি ও বাসদ এর পক্ষ থেকে দুই মেয়র প্রার্থীর নাম।
এখন অপেক্ষা আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীর।
বরিশাল বিভাগীয় নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের চতুর্থ দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেজন্য প্রস্তুতিও চলছে।
নতুন বছরের দিকেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অবশ্য নির্বাচনকে ঘিরে প্রায় এক-দেড় বছর আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সরকার দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।
মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। অবশ্য এর বাইরেও মেয়র প্রার্থী হিসেবে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে।
তাছাড়া বিএনপিও সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে দলটির পক্ষ থেকে স্থানীয় পর্যায়ে এখন পর্যন্ত প্রার্থী নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
অবশ্য বিএনপি থেকে সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে অর্ধডজন নেতা কেন্দ্রে তদবির লবিং এর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এবারের নির্বাচনে দেশের অন্যান্য সিটির ন্যায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনেও মেয়র পদে প্রার্থী পরিবর্তন না হওয়ার সম্ভাবনা ভর করেছে সংশ্লিষ্টদের মাঝে। এমনটি হলে সিটি নির্বাচনে বিএনপি’র হয়ে আবার লড়াই করবেন বর্তমান সিটি মেয়র মো. আহসান হাবিব কামাল।
এদিকে দলীয় বিভিন্ন নেতার মাধ্যম থেকে জানাগেছে, এবারের নির্বাচনে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ আর বিএনপিই নয়, জাতীয় পার্টি সহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য সরিক দলও নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহন করেছে। তারা মনে করছেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটের প্রভাব পড়বে না।
তাই দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে যেতে বাঁধা থাকছে না আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি’র সরিক দলগুলোর। অবশ্য আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি’র সরিক দল থেকে মেয়র প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন আলোচনা-সমালচনা দেখা যাচ্ছে না।
কিন্তু আওয়ামী লীগের সরিক দলে ইতিমধ্যেই ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে কেউ প্রকাশ্যে আসছে না।
অবশ্য দুটি বামপন্থি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দু’জন মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষনা করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি সংগঠন ওয়ার্ড পর্যায়েও প্রার্থী মনোনিত করছেন। দল দুটি হলো বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ (সিপিবি)।
এর মধ্যে সর্বপ্রথম বাসদ এর পক্ষ থেকে বিসিসি’র মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাসদ এর নবগঠিত জেলা কমিটির সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তী’র নাম ঘোষনা করা হয়েছে।
এছাড়া গত শুক্রবার ঘোষনা করা হয়েছে সিপিবি’র মেয়র প্রার্থীর নাম। সিটি’র মেয়র প্রার্থী হিসেবে সিপিবি থেকে জেলা কমিটির সভাপতি এ্যাড. একে আজাদ এর নাম ঘোষনা হয়।
অবশ্য বামপন্থি দুটি সংগঠন থেকে আগে ভাগেই প্রার্থী চুড়ান্ত করার বিষয়টি অনেকটা ভাবনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছেন। অবশ্য ভোটের হিসাব-নিকাশ না কশলেও বামপন্থি দুই মেয়র প্রার্থী ঘোষনার বিষয়টি ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি করেছে সাধারণ মহলেও। এখন শেষ পর্যন্ত বামপন্থিরা সিটি নির্বাচনের মাঠে প্রার্থী হয়ে থাকবেন কিনা সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।
জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও সিটি নির্বাচন নিয়ে ভাবছেন। তবে এটি নির্ভর করবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের উপর। অবশ্য পার্টির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন সূত্র বলছেন, সিটি নির্বাচনে এবার কেন্দ্রীয় ভাবেই জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিবে।
রংপুরে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর ভোট বিপ্লব বরিশাল সিটি নির্বাচন নিয়ে হাউ কমান্ডকে আরো ভাবিয়ে তুলেছে। অবশ্য সিটি নির্বাচনে গ্রহনযোগ্য প্রার্থী নির্ধারইনই দলের হাই কমান্ডের ভাববার বিষয় হয়ে দাড়াতে পারে।
কেননা বরিশালে জাতীয় পার্টিতে তৃপক্ষিয় কোড়ামের কারনে প্রার্থী নির্ধারন নিয়েও জটিতলার আশংকা করছেন তৃনমুল নেতা-কর্মীরা।
Facebook Comments

পাঠকের মতামত:

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য
TECHNOLOGY: SPIDYSOFT IT GROUP