রাজাপুরে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের রমরমা বানিজ্য

আপডেট : March, 17, 2017, 9:24 pm

রাজাপুর প্রতিনিধিঃঝালকাঠির রাজাপুরে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা সদরের বিসমিল্লাহ লাইব্রেরীসহ অন্তত ৬টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদরাসা শিক্ষকদের আগাম অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের সাথে আলাপে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, বিসমিল্লাহ লাইব্রেরীর মালিক মাওলানা ফজলে আলী খাঁন তিনি একাই উপজেলার প্রায় সকল বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষকদের বছরের শুরুতেই আগাম অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের গাইড বই কিনতে বাধ্য করছেন। তার এই কূটকৌশলের কারনে উপজেলা সদরের লাইব্রেরীগুলো যেমন, ইসলামিয়া লাইব্রেরী, আদর্শ লাইব্রেরী, জনতা লাইব্রেরী, স্টুডেন্ট লাইব্রেরীসহ অন্যান্য লাইব্রেরীগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অসাধু এই চক্রটি উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের তালিকা সংগ্রহ করে। পরে শিক্ষকদের মাধ্যমে এই চক্রটি শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের গাইড বই উচ্চমূল্যে কিনতে বাধ্য করছেন। ফলে অভিবাবকরা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তেমনি শিক্ষার্থীদেরও জ্ঞান হ্রাস পাচ্ছে বলে অভিবাবকদের অভিযোগ। সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযাই অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত সকল নোট গাইড বই বিক্রি নিষিদ্ধ করা হলেও ইংরেজী ও বাংলা ব্যাকরনসহ সকল নোট গাইড বই বিক্রি হচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। আদাখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীর অভিবাবক

আজিজ আহমেদ বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দিচ্ছে অথচ অসাধু শিক্ষক ও মুনাফালোভী এই ব্যবসায়ীর কারনে আমরা গাইড বই কিনতে কিনতে ফতুর হয়ে যাচ্ছি। রাজাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, বর্তমানে নোট ও গাইড বই গুলো ভুলে ভরা। আমরা এই নিম্নমানের বই পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের কাছে যে গাইড বই পাওয়া গেছে তার প্রত্যেকটি বইয়ে বিসমিল্লাহ লাইব্রেরীর সিল রয়েছে। এই সকল মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে প্রকাশনির বই বিক্রি করা হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে পপি প্রকাশনির গাইডের সংখ্যাই বেশি এছাড়াও রয়েছে লেকচার, জুপিটার, ক্লাস ফ্রেন্ডস্, স্কোয়ার। অপরদিকে মাদরাসাগুলোতে আল-ফাতাহ্, দারছুন, লেকচার ও আল-বারাকা প্রকাশনির নিম্নমানের গাইড বই দেদারছে বিক্রি করা হচ্ছে। এ বিষয় জানতে চাইলে বিসমিল্লাহ লাইব্রেরীর মালিক মাওলানা ফজলে আলী বলেন, আমি কোন শিক্ষককে টাকা দেইনি এবং বেআইনি কোন কাজ করছি না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন লিজা বলেন, নোট গাইড বই বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ। এ ব্যপারে কেহ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা বেগম পারুল বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

 

 

 

Facebook Comments