বরিশালে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দোকান দখলের পাঁয়তারা

আপডেট : July, 16, 2017, 10:15 pm

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বাবুগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাজারের সরকারি সম্পত্তিতে অবস্থিত দোকানঘর দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ক্লাবগঞ্জ বাজারে বিবাদমান দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে পাহাড়া বসিয়েছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভুতেরদিয়া মৌজার ৭৪৮ নং এস.এ খতিয়ানের ১৩৩১ দাগে অবস্থিত ক্লাবগঞ্জ বাজারের ১৫ শতাংশ সম্পত্তি নিয়ে স্থানীয় বিশ্বাস গ্রুপ এবং শরীফ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিগত প্রায় ৪০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসা ওই সরকারি সম্পত্তি দখল এবং খাজনা পরিশোধমূলে মালিকানা দাবি করছেন আব্দুর সাত্তার বিশ্বাস গ্রুপের লোকজন। এদিকে প্রতিপক্ষের খলিলুর রহমান শরীফ গ্রুপের লোকজন ওই একই দাগের সাড়ে ৫ শতাংশ জমি বিগত ২০০৬ সালে জনৈক আদম আলীর ওয়ারিশদের কাছ থেকে সাবকবলা দলিল করেন। শরীফ গ্রুপ দলিলমূলে ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করলেও বিগত ১৯৮৪ সালে বিরোধীয় ১৩৩১ নং দাগের ১৭ শতাংশ জমিসহ ক্লাবগঞ্জ বাজারের সম্পূর্ণ সম্পত্তি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত করে সরকার। এদিকে ওই সরকারি সম্পত্তির ভোগদখলকারী বিশ্বাস গ্রুপকে হটাতে তাদের বিরুদ্ধে বিগত ২০১১ সালে বরিশাল সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা (নং-৫৩/২০১১) দায়ের করেন খলিলুর রহমান শরীফ। তবে গত ২০১৪ সালের ৮ এপ্রিল ওই মামলাটি খারিজ করে দেন সহকারী জজ পলি আফরোজ। এরপরে জেলা জজ আদালতের আপীল ট্রাইব্যুনালে রিভিশন মামলা (আপীল নং-৫৮/২০১৪) দায়ের করেন বাদী খলিলুর রহমান শরীফ। তবে জেলা জজের বিশেষ আদালতের বিচারক মোঃ রফিকুল ইসলাম রিভিশন আপীল মামলাটি খারিজ করে দিয়ে সহকারী জজ পলি আফরোজের আগের রায়ই বহাল রাখেন। বিশ্বাস গ্রুপের পক্ষে মামলা পরিচালনা ও বিরোধীয় সম্পত্তি ভোগদখলকারী ঔষধ ব্যবসায়ী ইরান বিশ্বাস জানান, একে একে

সব আইনি লড়াইয়ে হেরে গিয়ে মুহুরী খলিলুর রহমান শরীফ এবং তার পুত্র রহমান ও হুমায়ুন শরীফ এখন অবৈধ পন্থায় পেশীশক্তির মাধ্যমে ওই সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালিয়ে সম্পত্তি থেকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করলে আমি বাধ্য হয়ে গত ৬ জুলাই বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বাবুগঞ্জ থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলসহ ওই বিরোধীয় সম্পত্তিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কেদারপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি বাদল বিশ্বাস জানান, আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা জারির পরেও ক্ষমতার দাপটে ওই জমি দখল নেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন শরীফ গ্রুপের লোকজন। দিনে অথবা রাতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে দ্রুত জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের জন্য এখন নিজেদের বাড়িতে টিনের বেড়া তৈরি করছেন। এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ শাহজাহান মানিক জানান, গত প্রায় একমাস ধরেই দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। দু’গ্রুপের মধ্যে যে কোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে। অভিন্ন আশঙ্কা প্রকাশ করে বাবুগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আব্দুস সালাম জানান, ক্লাবগঞ্জ বাজারে ওই সংঘর্ষ এড়াতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে শরীফ গ্রুপের নেতা খলিলুর রহমান শরীফের পুত্র মুহুরী হুমায়ুন শরীফ দলিলমূলে ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে বলেন, আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে আমরা দোকানঘর মেরামতের চেষ্টা করলে তাতে বাঁধা দিচ্ছে বিশ্বাস গ্রুপের লোকজন। ওই জমি আমাদের কেনা এবং সরকারি এক নম্বর খাস খতিয়ানের ওই রেকর্ড ভাঙার জন্য হাইকোর্টে আপীল করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিবি খাদিজা জানান, ১৯৫৪ সনের ভূমি অধিগ্রহন আইন অনুসারে সরকারি এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় কিংবা দলিল করার সুযোগ নেই।

Facebook Comments