বরিশালে সড়কের ওপর বাঁশের সাঁকো পাড়ি দিয়ে চলছেন ৫ গ্রামের মানুষ!

আপডেট : July, 16, 2017, 10:27 pm

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নদী কিংবা খালের ওপরে নয়। এবার সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে রাস্তার ওপরে। আর সেই বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছেন বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউনিয়নের ৫ গ্রামের মানুষ। চলছে ওই এলাকার ৭টি স্কুলের শিশুরাও। কর্দমাক্ত মাটির রাস্তায় হাঁটতে না পেরে বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপরেই প্রায় একশ’ ফুট লম্বা এমন একটি বিরল বাঁশের সাঁকো স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে তৈরি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কাশিগঞ্জ বাজার থেকে ক্লাবগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ওই কাঁচা সড়কের আছিয়া ওয়াজেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন অংশে নির্মাণ করা হয়েছে বাঁশের এ সাঁকোটি। আছিয়া ওয়াজেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছাড়াও প্রতিদিন এ সাঁকোর ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে স্থানীয় সোনার বাংলা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফরিদগঞ্জ বহুমুখী ফাজিল মাদ্রাসা, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, জনপ্রিয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাওলাদার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুসহ দেড় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। এ সাঁকো পেরিয়েও প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ কর্দমাক্ত রাস্তায় প্রতিদিন সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ৫ গ্রামের চলাচলকারী ৩ সহস্রাধিক মানুষ। উপজেলা ছাত্রমৈত্রীর সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌস হাসান মাসুম ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ক্লাবগঞ্জ বাজার টু কাশিগঞ্জ বাজারের প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই মাটির সড়কটি দিয়ে পূর্ব কেদারপুর, সানি কেদারপুর, দক্ষিন ভুতেরদিয়া ও মধ্য ভুতেরদিয়া গ্রামসহ কেদারপুর ইউনিয়নের ৫ গ্রামের মানুষ চলাচল করে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি বছরের প্রায় ৬ মাসই কর্দমাক্ত থাকে। ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন এ কাঁচা রাস্তাটি গত ২০ বছরেও

পাকা কিংবা সংস্কার কাজ হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে হাঁটু পরিমাণ কাঁদা এবং পানি জমতে জমতে এখন মাটি সরে গিয়ে আছিয়া ওয়াজেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন অংশে প্রায় সারাবছরই কাঁদা জমে থাকে। তাই গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলের স্বার্থে আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে এখন রাস্তার ক্ষতিগ্রস্থ অংশে ওই বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করে দিয়েছি। স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন আকন, ইউসুফ পেয়াদা ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আবুল কাশেম জানান, বর্ষাকালে ওই রাস্তার কাঁদাপানিতে জুতা খুলে এবং কাপড় বদল করে প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যেতে হয় হাজারো শিক্ষার্থীকে। অথচ টিআর, কাবিখা, কাবিটা আর কর্মসৃজন কর্মসূচি দিয়ে গ্রামীণ রাস্তা সংস্কারের নামে এখানে এক চাকাও মাটি কাটা হয়নি। এ রাস্তাটি পাকা অথবা সংস্কার করার জন্য দীর্ঘদিন কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির কাছে ধর্ণা দিয়েও কোনো ফল হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য রেজাউল করিম ও রোকন সরদার এসব অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ভোটের বিবেচনায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করেন কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান। উপজেলা চেয়ারম্যানও তার কথাই শোনেন। তাই কেদারপুর ইউপির ৪, ৬, ৭, ৮ এবং ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্যরা সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি এবং বরাদ্দের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আংশিক স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারী জানান, ওই রাস্তার উন্নয়ন হয়নি একথা সত্যি তবে সব প্রকল্পে লুটপাট হয়েছে এটা ডাহা মিথ্যা। এলাকাবাসীর সাঁকো নির্মাণের কথা শুনে আমি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে রাস্তার কাঁদাপানি জমে থাকা অংশে ২ গাড়ি বালু ফালানো নির্দেশ দিয়েছি।

Facebook Comments