বরিশালে খাল দখল,বিএনপি নেতার শেষ, আ.লীগ নেতার শুরু

আপডেট : March, 18, 2017, 3:23 pm

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় খাল দখল করে বিএনপির স্থানীয় এক নেতা ভবন নির্মাণ করেছেন। তাঁর ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হতে না-হতেই একই খালের ওপর আরেকটি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের এক নেতা। এভাবে ভবন নির্মাণ করায় খালে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সেচের সংকটে এলাকায় বোরা চাষ ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের টরকী-চেঙ্গুটিয়া খালের সাদ্দাম বাজার এলাকায় ধানডোবা গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খোকন হাওলাদার খালের ওপর ভবন নির্মাণের কাজ মাসখানেক আগে সম্পন্ন করেছেন।

তাঁর নির্মাণকাজ শেষ হতে না-হতেই প্রায় ১০০ ফুট দূরে সাত-আট দিন ধরে ওইখালের ওপর আরেকটি ভবননির্মাণের কাজ শুরু করেছেন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ধুরিয়াইলগ্রামের খোকন হাওলাদার।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, বোরো চাষে সেচের সুবিধা ও ফসল পরিবহনে তাঁদের প্রধান ভরসা এই খাল। ভবন নির্মাণের কারণে খালটি সরু হয়ে গেছে। এতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সাদ্দাম বাজারের ব্রিজের গোড়ায় ১০ ফুট প্রস্থ ও প্রায় ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করেছেন বিএনপির নেতা খোকন হাওলাদার। কাছেই ৫০ ফুট প্রস্থ ও ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ভবন নির্মাণের কাজ চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতা খোকন হাওলাদার।

এ সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক খান ও সদস্য আবদুল খালেক খান অভিযোগ করেন, খোকন হাওলাদার অবৈধভাবে খালের ওপর ভবন

নির্মাণ শুরু করলে এলাকাবাসী লিখিতভাবে ভূমি কার্যালয়ে অভিযোগ করলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতা খোকন হাওলাদার ভবননির্মাণ শুরু করতে উৎসাহিত হয়েছেন এবং পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। দুটি ভবন নির্মাণের কারণে খালে পানির প্রবাহ কমে গেছে এবং চলতি মৌসুমে বোরো চাষে সেচের সংকট দেখা দিয়েছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা না হলে চাষিদের ফসল ও ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন ব্যাহত হবে।

জানতে চাইলে ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খোকন হাওলাদার দাবি করেন, ‘আমি ভবন নির্মাণ করেছি, এতে জনসাধারণের কোনো ক্ষতি হয়নি। তা ছাড়া নির্মাণকালে কেউ তো বাধা দেয়নি।’

৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোকন হাওলাদার বলেন, ‘বিএনপির নেতা খাল দখল করে ভবন নির্মাণ শুরু করলে সাধারণ কৃষকদের সমস্যার কথা জানিয়ে আমি ভূমি কার্যালয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করি। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বিএনপির নেতা হয়ে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাতে দোষ নেই। বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, তাহলে আমি ভবন নির্মাণ করলে দোষ কী?’

গৌরনদী উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. মিজানুর বলেন, ‘বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে খাল দখলের বিষয়ে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে ভূমি কর্মকর্তার নির্দেশে বিষয়টির তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ উপেক্ষা করে বিএনপির নেতা ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন। আর আওয়ামী লীগের নেতার ভবন নির্মাণের বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।’

সূত্রঃপ্রথম আলো

Facebook Comments