শুক্রবার কেক কেটে রবিবার রাতে মামলা,বাপ্পিসহ তিন ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে

আপডেট : March, 19, 2017, 8:29 pm

 

 

স্টাফ রিপোর্টারঃছাত্রলীগের রাজনীতি নিয়ে বরিশাল সরকারী পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট, সরকারী বিএম কলেজের পরেই সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ উত্তাল হয়ে ওঠে। পলিটেকনিক ইউষ্টিটিউটে ছাত্রলীগের ন্যাক্কার জনক ঘটনা আজও সাধারন ছাত্রদের বুক কাপিয়ে দেয়। এর পর বরিশাল সরকারী বিএম কলেজে অধ্যক্ষ যোগদানকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষকে প্রকাশ্য রাজ পথে হামলার শিকার হতে হয়। যা বরিশালের সকল শিক্ষক সমাজ ধিক্কার জানিয়েছিলো। এর পর পররই সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে শুরু হয় ছাত্রলীগ ও শিক্ষকদের মনমালিন্য। শুধু বৃহস্পতিবারের ঘটনাই নয়। এ আগেও বেশ কয়েকবার হাতেম আলী কলেজ অধ্যক্ষ ও ছাত্রলীগের মধ্যে হট্টগোল বাধে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের অভিভাবককে লাঞ্চিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ ছাত্রলীগ ও সাধারন শিক্ষার্থীদের সাথে কথাকাটাকাটি হয়। এ নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষের রুমে বসে অধ্যক্ষ সচীন কুমার রায় অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চান। একই সাথে কলেজে সকলে মিলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিন উপলক্ষে কেক কাটার সিধান্তও নেয়। সে অনুযায়ী শুক্রবার সকালে কলেজের সকল শিক্ষক শিক্ষিকা ও ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীরা মিলে কেক কাটেন। যা স্থানীয় পত্রিকায় ছবিও প্রকাশ পায়। এদিকে শুক্রবার দিন রাতে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ছাত্রলীগের কোন অপ্রিতিকর  পরিস্থিতির জন্য মহানগর ছাত্রলীগ দায় নেবেনা। এর একদিনের মাথায় হাতেম আলী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম বাপ্পিসহ চার ছাত্রলীগ নেতা ও অজ্ঞাত আরো ১০ থেকে ১২ জনের নামে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ওই মামলায় গতকাল আটককৃতদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত অপর তিনজন হলো : আ ন ম হাফিজ, এইচএম হাসিবুল ইসলাম ও রুবেল বেপারী। এরা বাপ্পির সহযোগী বলে দাবী করছে পুলিশ। কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর

রহমান জানান, শনিবার রাতে হাতেম আলী কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. অলিউল ইসলাম বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর সচিন কুমার রায়ের কাছে বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবী করে আসছিলো রেজাউল ইসলাম বাপ্পী। দাবীকৃত চাঁদা না দেয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর এবং কলেজ বন্ধের হুমকী দেয় সে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়ার সময় গত ১৬ মার্চ বাপ্পী কলেজ অধ্যক্ষের কাছে পুণরায় ২ লাখ টাকা চাঁদ দাবী করে। অধ্যক্ষ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাপ্পী ও তার সহযোগীরা অধ্যক্ষের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের হত্যার হুমকী দেয়। এ ঘটনায় কলেজের পক্ষে শনিবার রাতে প্রভাষক মো. অলিউল ইসলাম বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলাটি আমলে নিয়ে ওই রাতেই সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম বাপ্পী এবং তার ৩ সহযোগী ছাত্রলীগ নামধারী আ ন ম হাফিজ, এইচএম হাসিবুল ইসলাম এবং রুবেল বেপারীকে গ্রেফতার করে। ওই মামলায় আজ বেলা সাড়ে ১১টায় গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। উল্লেখ্য গত ১৬ মার্চ বেশ কিছু শিক্ষার্থীর সাথে খারাপ আচরন করেন কলেজ অধ্যক্ষ সচিন কুমার। খবর পেয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ হয়ে বাপ্পি অধ্যক্ষের কক্ষে যান। এক পর্যায় অধ্যক্ষ সচিনের সাথে তুমুল হট্টগোল হয়। ওই দিন সচিন কুমার রায় সাংবাদিকদের কাছে বলছিলেন কারো সাথে তার কোন গন্ডগোল হয়নি। কেউ তাকে লাঞ্ছিত করেনি। ৩০/৪০ জন ছাত্র ছয় মাস ধরে একদিনও কলেজে আসেনি। আমি অভিভাবকদের সাথে এ নিয়ে কাউন্সিলিং করেছি। অভিভাবকরা আমাকে প্রশংসা করেছেন। এর পরের দিন শুক্রবার (১৭ মার্চ ২০১৭) ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল ইসলাম বাপ্পিকে নিয়ে এক সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনের কেক কাটেন অধ্যক্ষ সচিন কুমার রায়।

Facebook Comments