১৭ ঘন্টা পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত পবিপ্রবির ভিসিসহ কর্মকর্তারা

আপডেট : March, 22, 2017, 9:35 pm

স্টাফ রিপোর্টারঃ১৭ ঘন্টা পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ভিসিসহ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। পাশাপাশি আলোচনা সাপেক্ষে প্রবেশন পদ্ধতি বাদ দিয়ে স্পেশাল পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর দাবীতে শুরু করা আন্দোলন থেকে সরে গেছে শিক্ষার্থীরা। দফায় দফায় সভা শেষে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টার দিকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন তুলে নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে সরে যায়। পরে একে একে ভেতরে আটকা পড়া শিক্ষক-কর্মকর্তারা বেরিয়ে আসেন। এরআগে দাবী আদায়ের লক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা ধর্মঘট এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শুরু করে। এসময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকসহ সবকটি প্রবেশপথে তালা লাগিয়ে বন্ধ করে দেয়। যারফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ড. হারুন অর রশিদসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকরা অবরুদ্ধ রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে পবিপ্রবি’র প্রক্টর কমিটির প্রধান ড. পূর্ণেন্দু বিশ্বাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কোন শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে ফেল করলে তাকে পরবর্তী বছরে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে পরের সেমিন্টারে যেতে হবে। এতে করে শিক্ষার্থীদের এক সেমিন্টারে দু’বছর ব্যায় হবে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এমন নিয়ম মানতে নারাজ। তাদের দাবী ফেল

করে এক বছর তারা একই সেমেস্টারে থাকতে পারবেন না। তাদের জন্য স্পেশাল পরীক্ষার ব্যবস্থা করে পরবর্তী সেমিন্টারে যাবার সুযোগ করে দিতে হবে। তিনি বলেন, একটি আইনের মাধ্যমে প্রবেশন প্রথা চালু হয়েছিলো, সে আইনটিকে রহিত করা হয়েছে। তার মানে প্রবেশন প্রথা থাকবে না এই আশ্বাসের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টার দিকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন তুলে নিলে ভিসিসহ শিক্ষক-কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসে। এদিকে মঙ্গলবার সকালে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিবৃত করতে চেষ্টা চালালে পাঁচ শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে শিক্ষক লাঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে কেই স্বীকার করেননি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানাগেছে, শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশন পব্ধতি বাতিলের দাবী জানিয়ে আসছিলো। গত সোমবার দাবীর বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক কাউন্সিলর এর সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবী ওয়াক আউট করা হয়। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি সেমিন্টারের সর্বস্থরের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

Facebook Comments