বরিশাল লাইভ আমার স্বপ্ন আমার চ্যালেঞ্জ

আপডেট : March, 29, 2017, 9:40 am

সাঈদ বারীঃ আমার প্রেম, আমার স্বপ্ন, আমার সাধনা, আমার চ্যালেঞ্জ, অনলাইন নিউজপোর্টাল বরিশাল লাইভ টুয়েন্টিফোর ডট কম। এই বরিশাল লাইভের শুরু থেকে আজকের দিন (২৯ শে মার্চ)  পর্যন্ত অনেকের কথা শুনতে হয়েছে।অনেকের কথার কাটায় বিদ্ধ হতে হয়েছে প্রায় প্রতিদিন।
কাটায় বিদ্ধ হয়ে মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়েছি। তবে হারতে শিখিনি বলে হারিনি। কঠিন বিপর্যয় থেকে উঠে এসে ঘুরে দাঁড়িয়েছি।

আমার জীবনের সকল সঞ্চয় এখানে ব্যয় করেছি। বন্ধু-স্বজনের কাছে আর্থিকভাবে ঋণগ্রস্ত হয়েছি। তবুও আমি হাল ছাড়ছি না। শুরুতে অনেকে সহযোগিতার অঙ্গীকার করে সঙ্গে থাকেননি। নানামহলের হিসেবে নিকেশ করেছেন। অনেকে পাশে ছিলেন। অনেক সংবাদকর্মী বরিশাল লাইভের সঙ্গে নেই। কিন্তু আছেন আমার পাঠক, কয়েকজন হার না মানা সাংবাদিক নেতা।শুধু তাই নয় আছেন আমার অগ্রজ সাংবাদিক ভাইয়েরা। তাদের অনেকের নাম প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা আছে ।তাই কারো নামই প্রকাশ করলাম না। নাম প্রকাশ না করলেও আপনাদের জন্য আমার কৃতজ্ঞতা পূর্বেও ছিল এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সাংবাদিক ভাইদের সাথে ছিল আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই পিকু ভাইসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্খী।
শুরুতে কেউ কেউ আশপাশ থেকে অন্ধকারে পিঠে ছুরি চালালেও তারা আমাকে সাহস দিতে ভুলেননি।

তবে যাদের কারনে বরিশাল লাইভ আজকের অবস্থানে তাদের আমি প্রাপ্য সন্মান দিতে পারিনি বলে আমি  তাদের কাছে লজ্জিত।কারন একটা সংবাদমাধ্যমের উথান-পতনের মূল হচ্ছেন সংবাদিকরা।আর সেই সাংবাদিকদের যখন সন্মানি দিতে পাড়ি না,তখন মনটা খারাপ হয়ে যায়। তবে হ্যাঁ আমি অকৃতজ্ঞ নই।

বরিশালের চার-পাঁচজন সিনিয়র সাংবাদিক।যারা বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় কাজ করেন তাদের কাছ থেকে নিউজ সংক্রান্ত অনেক সাপোর্ট পেয়েছে বরিশাল লাইভ। আর তা সম্ভব হয়েছে বরিশাল লাইভের প্রতি তাদের অকৃত্তিম ভালবাসার খাতিরেই।

আবার অন্যদিকে পটুয়াখালী জেলা শহরের বিলাস ভাই, ঝালকাঠি জেলা শহরের সবুজ ভাই, কলাপাড়ার জাহিদ রিপন ভাই, কুয়াকাটার রাজু ভাইসহ আরো কয়েকজন বরিশাল লাইভের উন্নতির স্বার্থে প্রতিদিন নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।তবে আমি তাদের পরিশ্রমের মূল্য দিতে পারছি না বলে খুবই লজ্জিত। মাঝে মাঝে তাদের কাছে নিউজের জন্য ফোন দিতেও লজ্জা লাগে।আমি তাদের কাছে অনেক ঋণী।তবে ভাইয়েরা আমি আপনাদের থেকে বয়সে অনেক ছোট হলেও,

আমি একদিন এই ঋণ শোধ করবো ইনশাল্লাহ। আমি আশা করবো ততদিন আপনারা আমার তথা বরিশাল লাইভের সাথেই থাকবেন।

আর হ্যাঁ ভাই আপনাদের বলছি যারা বরিশাল লাইভের ভালো চাননা, প্রতি পদে পদে বরিশাল লাইভের দোষ খুজে বেড়ান।দেখেন আপনারা আমার থেকে অনেক সিনিয়র।আপনারা আমার কষ্ট বুঝবেন না। বোঝার কথাও না কারন, আপনারা আমার মতো চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হননি।বরিশাল লাইভের জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে তা যদি জানতেন,তাহলে বরিশাল লাইভের শুভাকাঙ্ক্ষী হতেন। আপনারা কি জানেন, এই সাঈদ বারী বরিশাল লাইভের শুরুর দিকে ঈদের কেনাকাটা না করে বরিশাল লাইভের অফিশিয়াল ফ্যান পেইজ প্রমোট করার জন্য সে টাকা খরচ করেছিল।জানেন না তাই বলেন, বরিশাল লাইভের ফ্যান পেইজে ভুয়া লাইক। আপনি কি জানেন প্রতি মাসের টিউশনির টাকা খরচ করে বরিশাল লাইভের সার্ভার বিল দেই।সেটাও জানেন না, জানলে বলতে পাড়তেন না যে কার্ড বিক্রি করে ধান্ধা জমাইছি। আরে ভাই আপনি তো এটাই জানেন না যে, বরিশাল লাইভে যারা কাজ করে তাদের আজ পর্যন্ত কোন আইডি কার্ড দেওয়া হয়নি। আরো কতো কি……..

এরকম নানা অবহেলা, তীক্ষ্ণ কথা-বার্তাসহ, অনিশ্চয়তার টানাপোড়েন, উত্থান, পতন আমার পায়ে পায়ে হেঁটেছে। তবে আমাকে কখনো আটকাতে পারেনি, দমাতে পারেনি।

এত কিছুর পরেও আমি থামিনি কারন সংবাদ জগতের আবহাওযা বলছে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রিন্ট মিডিয়ার জায়গায় অনলাইন যেমন শক্তিশালী রূপ নেবে। তাই হতাশ হইনি।কারন গুনীজনরা বলেছেন হতাশাই জিতে যাওয়া মানুষকে হারিয়ে দেয়।

আর হতাশ হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করেছে আমার আত্নবিশ্বাস। আর আমার আত্নবিশ্বাসের শক্তি আমার পাঠকগণ।

আমি জানি, যুদ্ধই আমার জীবন। যুদ্ধে হেরে গেলে আমার স্বপ্নের বরিশাল লাইভ বন্ধ হয়ে যাবে।

কৃতজ্ঞতাঃকাজী মিরাজ ভাই,লিটন বাশার ভাই,আনোয়ার হোসেন পিকু ভাই,সালেহ টিটূ ভাই,এম.জহির ভাই,নাসিমুল হক ভাই, খান রুবেল ভাই, আরেফিন তুষার ভাই,বাহাউদ্দিন গোলাপ ভাই,  সালমান আজীম ভাই,সাঈদুর রহমান পান্থ ভাই,মুশফিক সৌরভ ভাই,রেজাউল কবির ভাই,মামুন-অর-রশীদ ভাই, খন্দকার রাকীব ভাই, নাসির উদ্দিন নাঈম, শাকিল মাহামুদ,এসইও মাষ্টার আবির ভাই,জীহাদ রানা ভাইসহ আরো অনেকে আছেন যাদের নাম এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে না।

আর বরিশাল লাইভের সন্মানিত পাঠকদের প্রতি আমার বিশেষ কৃতজ্ঞতা।

Facebook Comments