মধ্যরাতে বৃদ্ধ নারীকে মারধর করে ছেলেকে আটক,তিন পুলিশ কর্মকর্তার অপসারণ দাবি

আপডেট : March, 31, 2017, 2:05 pm

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মধ্যরাতে এক নারীকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাঁর ছেলেকে আটক করায় ঝালকাঠির নলছিটি থানার তিন পুলিশ কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও থানা ঘেরাও করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। আজ শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে টানা তিন ঘন্টা থানা ঘেরাও করে রাখেন উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের পাঁচশতাধিক নারী-পুরুষ।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তৌকাঠি গ্রামের জাহাঙ্গীর মোল্লার ছেলে জসিম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে থানায় নিয়ে আসার পথে হ্যান্ডকাপসহ সে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার জের ধরে নলছিটি থানার চারজন এসআই ও দুইজন এএসআইর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গতরাতে (বৃস্পতিবার রাত ৩ টা) তৌকাঠি গ্রামের রাজিব হাওলাদারের বাড়িতে জসিম আশ্রয় নিতে পারে সন্দেহে অভিযান চালায়। জাসিমকে ওই বাড়িতে না পেয়ে সজিবকে আটক করে পুলিশ। বিনা কারণে ছেলে আটকের প্রতিবাদ করায় সজিবের মা সেলিনা বেগমকে মারধর করে পুলিশ। বৃদ্ধ এ নারীকে পিটিয়ে ও লাথি মেরে আহত করে তাঁর ছেলে সজিবকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার খবর আজ শুক্রবার সকালে জানাজানি হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কুলকাঠি ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক নারী পুরুষ একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নলছিটি আসেন। তারা থানা ঘেরাও করে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ

করেন। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব নলছিটি থানায় আসেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আটক সজিব ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকজনের বক্তব্য শোনেন। পরে তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয়। তবে মধ্য রাতে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে বৃদ্ধ নারীকে মারধরকারী নলছিটি থানার এসআই বিল্পব মিস্ত্রি, এসআই জসিম ও এসআই ফিরোজের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত থানার সামনে অবস্থানের ঘোষণা দেন।
কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান বাচ্চু জানান, পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে আসমী ধরতে গিয়ে আমার ইউনিয়নের তৌকাঠি গ্রামের মৃত ফারুক হাওলাদারের ছেলে নিরিহ যুবক রাজিব হাওলাদারকে (২২) ধরে থানায় এনে মাধকসেবী সাজানোর চেস্টা করে। এঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থানা অবরোধ করে রাখে। পরে পুলেশের উর্দ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় বিয়টির সুরাহা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নলছিটি থানার ওসি এ কে এম সুলতান মাহামুদ জানান, সজিবের কাছে গাঁজা পাওয়া গেছে, তাই তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। কোন নারীকে মারধর করা হয়নি বলেও জানান তিনি।  ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব জানান, সজিব ও তার এলাকার লোকজনের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

Facebook Comments