মেয়রের আসবেন বলে কর্পোরেশনের গেট আটকে ময়লার গাড়ি

আপডেট : April, 2, 2017, 3:07 pm

বরিশালঃ  বকেয়া বেতনের দাবীতে প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ কর্মবিরতি পালন করছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত ও দৈনিক মজুরী ভিত্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ রোববার (২মার্চ) সকাল ৮ টা থেকে কর্পোরেশন ভবনের ময়লার গাড়ি রেখে প্রধান দুটি গেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি ভবনের মূল প্রবেশপথের গেটটি আটকে দিয়ে তার সামনে বসে লাগাতার কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘটন পালন করছেন। আন্দোলনকারীরা জানান, মেয়র আহসান হাবিব কামাল কয়েকজন কাউন্সিলরকে সাথে নিয়ে কর্পোরেশনে আসবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি বকেয়া বেতনের দাবীতে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা না বলে কর্পোরেশনে কোন কর্মকান্ড যাতে না চালাতে পারে সে জন্যই মূল গেটের সামনে ময়লার গাড়ি ও ভবনের প্রবেশদ্বার আটকে দেয়া হয়েছে। এদিকে আন্দোলনকারী বিসিসি’র পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র লাল জানান, নিয়মিত-অনিয়মিত কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। আর কোন আশ্বাস নয় এবার বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, গতকাল মেয়র সংবাদ সম্মেলনে পূর্বের মেয়রের সময়ের ৩ মাসের বকেয়া রয়েছে বলে জানিয়েছেন, তা সঠিক নয়। আবার গুটি কয়েক কর্মচারী ভয় দেখিয়ে আন্দোলনে বাধ্য করছে সে কথাও সঠিক নয়। মেয়রের আর্শিবাদপুষ্টরা নানানভাবে ভয় দেখিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এদিকে আন্দোলনের কারেন গত সোমবার থেকে মেয়র কর্পোরেশনের যেতে না পারলেও আজ সকাল ৯ টায় কাউন্সিলরদের সাথে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু বেলা পৌনে ১১ টা পর্যন্ত তিনি জাননি। প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহীদুল্ল্যাহ জানিয়েছে দ্বিতীয়আর্ধে মেয়র কর্পোরেশনে যাবেন। এদিকে শনিবার (১ মার্চ) বিকেলে মেয়র আহসান হাবিব কামাল বেশ কয়েকজন কাউন্সিলদের নিয়ে নগরের কালুশাহ সড়কে তার নিজ বাস ভবনে এক সংবাদ

সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেয়র বলেন, ‘রোববারের মধ্যে যদি পরিচ্ছন্নকর্মীরা কাজে যোগদান না করে তাহলে ওয়ার্ড কাউন্সিলররা নতুনভাবে কর্মচারী নিয়ে স্ব-স্ব ওয়ার্ড পরিচ্ছন্নের কাজে নেমে পড়বে। সার্বিক বিষয় নিয়ে তিনি ৩৫ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নিয়ে সভা করেছেন এবং সেই সভায় উক্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামীকাল মাস্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের আগেই ১ মাসের বেতন ব্যংকে দেয়া হয়েছে আগামীকাল আরো ১ মাসের দেয়া হবে, এতে করে তাদের বকেয়া থাকছে না। অপরদিকে নিয়মিতোদের ২ মাসের বেতন ও ৪ টি প্রভিডেন্টফান্ডের টাকা কালকের মধ্যে দেয়া হবে। তাদেরও আমার আমলে আর কোন বকেয়া থাকবে না। তবে আরো যে ৩ মাস বকেয়া তা পূর্বের মেয়রের আমলের। তিনি বলেন, রোববার আমরা কর্পোরেশনে যাবো, তারা যদি এতে রাজি না হয় এবং কোন বাধা প্রদান করে তবে সেক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সহয়তা নেয়া হবে। পাশাপাশি মাস্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্তরা যদি বেতন না নেয় এবং কাজে যোগদান না করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং নতুন করে কর্মচারী নিয়ে সেমাবার থেকে নগর পরিষ্কারের কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, গুটি কয়েক কর্মকর্তা কর্মচারীরা দৈনক মজুরী ভিত্তিক কর্মচারীদের ভুল বুঝিয়ে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য একটি আন্দোলণ গড়ে তোলে। আন্দোলনের কারণে আমরা লক্ষ্য করি মেয়র ও কাউন্সিলরদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য নগরবাসীকে ভোগান্তিতে ফেলে ময়লা পরিষ্কার বন্ধ করে দেওয়া হয়। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে যেখানে বিধি মোতাবেক কর্মকর্তা/কর্মচারী থাকার কথা ৫৪২জন সেখানে প্রায় ২১৩১ জন নিয়ে সিটি কর্পোরেশন চলছে। এ বিশাল সংখ্যক কর্মচারীর দায়ভার বহন করা কারো পক্ষেই সম্ভব না বলে জানান মেয়র কামাল।

Facebook Comments