তাই বলে বরিশালবাসীর সাথে এমন প্রতারনা!

আপডেট : April, 3, 2017, 12:25 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার নামে বরিশালবাসীর সাথে চলছে প্রতারনা। প্রতি বছর বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ আন্তর্জাতিক নাম দিয়ে বানিজ্য মেলার আয়োজন করছে। অথচ বানিজ্য মেলায় আসছে না আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোন ব্যবসায়ী। মিলছে না আন্তর্জাতিক মানের কোন পন্য সামগ্রীও। ঠিক এ বছরেও আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার নাম দিয়ে বরিশালবাসীর সাথে প্রতারনা করছে চেম্বার অব কমার্স এর নেতৃবৃন্দ। অবশ্য আন্তর্জাতিক নাম দিয়ে প্রতি বছর আয়োজিত বানিজ্য মেলার নামে চেম্বার এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ ব্যক্তিগত বানিজ্য করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ক্রেতাদের পকেট ফুটো হলেও অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করছে আয়োজক সংস্থাটি।
মেলার সাথে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার মূল শর্ত হচ্ছে বৈদেশিক পন্য সামগ্রীর মহা সমারোহ ঘটানো। মেলা জুড়ে যে কটি স্টল থাকবে তার দুই-তৃতীয়ংশই বিদেশী পণ্য সমগ্রীর স্টল থাকতে হবে। দেশীয় স্টল থাকলেও সেখানে থাকতে হবে আন্তর্জাতিক মানের পন্য সামগ্রী। নিয়মে এমনটি থাকলেও বাস্তবে পুরোই উল্টো। সম্প্রতি নগরীর বান্দ রোডে বিআইডব্লিউটিএ’র মেরিন ওয়ার্কশপ মাঠে আন্তর্জাতিক নাম দিয়ে শুরু হওয়া মাসব্যাপী বানিজ্য মেলা এমনটিই প্রমান দিচ্ছে। কেননা চলমান এই মেলায় নেই আন্তর্জাতিক মানের কোন স্টল বা বানিজ্য প্রতিষ্ঠান। সম্পূর্ণ দেশীয় পন্য সামগ্রী দিয়েই সাজানো হয়েছে গোটা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা প্রাঙ্গন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত ১১ মার্চ মেরিন ওয়ার্কশপ মাঠে উদ্বোধন হওয়া বানিজ্য মেলায় মোট ১০০টি স্টল এর আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ওই একশটি স্টল ভাড়া দিতে পারেনি মেলা কর্তৃপক্ষ। এখনো ১৬টির মত স্টল ফাঁকা পড়ে আছে। শুধু চলতি বছরেই নয়, প্রত্যেক বারেই মেলার অধিকাংশ স্টল খালি পড়ে থাকছে।
এদিকে শুধুমাত্র স্টল ফাকাই নয়, যে কটি স্টল এর আয়োজন করা হয়েছে সেখানে নেই আন্তর্জাতিক মানের পন্য। যদিও মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষের দাবী তিনটি দেশের আন্তর্জাতিক মানের তিনটি স্টল রয়েছে। স্টল তিনটি হলো ইরান, বার্মা এবং পাকিস্তানী। এখানে আন্তর্জাতিক মানের পন্য সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে বলে

দাবী আয়োজকদের। তবে সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে ভিন্ন চিত্র। যে তিনটি স্টল ইরানী, বার্মা এবং পাকিস্তানি দাবী করা হচ্ছে সেখানেও দেশিয় পন্য সামগ্রীতে ভরে রাখা হয়েছে। তিনটি স্টলে সিরামিক, প্রসাধনী এবং ডল (পুতুল) দিয়ে সাজানো।
বাকি স্টল গুলোর অবস্থা আরো করুণ। আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার পুরোটাই ঘিরে রেখেছে দেশীয় জুতা, থ্রি-পিস আর মহিলাদের পার্স্ট ব্যাগ দিয়ে। এর পাশাপাশি রয়েছে কসমেটিক্স, এমিটিশনের অলংকার, শিশুদের পোশাক, খাবার দোকান আর খেলনা সামগ্রী। মেলার মাঠে রয়েছে কয়েকটি ফুচকা-চটপটির দোকান, শিশুদের খেলনা ট্রেন, নাগরদোলা আর নৌকা। বানিজ্য মেলার স্টলে যেসব পন্য উঠেছে তাতে করে এটিকে আন্তর্জাতিক মেলা বোঝা দুস্কর হয়ে দাড়িয়েছে। বাইরে থেকে দর্শনার্থীরা আন্তর্জাতিক পনের পণ্য সামগ্রী কিনতে গভির আগ্রহ নিয়ে দর্শনীর বিনিময়ে প্রবেশ করছে মেলায়। কিন্তু ভেতরে ঢুকে দেখতে পাচ্ছেন পুরোটাই প্রতারনা। ফলে একটু ঘোরা ফেরা করে বিমুখ হয়ে ফিরছেন দর্শনার্থীরা। এসব কারনে মেলাও জমে উঠছে না। মেলার মেয়াদ শেষ হয়ে আসার পাশাপাশি কমে যাচ্ছে দর্শনার্থীর সংখ্যাও।
এদিকে মেলার আয়োজনের নামে চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের সাথে শুধু প্রতারনাই করছে না, অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। কেননা বানিজ্য মন্ত্রনালয় থেকে দেয়া মেলার অনুমতি ২০ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসের অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অর্থাৎ ১৭ মার্চ উদ্বোধন করা হয় বানিজ্য মেলার। অবশ্য মেলার মাঠে বেচা-বিক্রি শুরু হয়েছে আরো আগে।তবে উদ্বোধন যেদিনই হোক ২০ এপ্রিলই শেষ দিন হিসেবে হিসাব করছেন আয়োজকরা। বরং ব্যবসায়ীদের লোকসান এর অজুহাতে মেলার মেয়াদ আরো বাড়ার চিন্তাও করছেন আয়োজকরা। মেয়াদ বৃদ্ধি পেলে স্টল মালিকদের লাভের সুযোগ না থাকলেও মেলার আয়োজকদের লাভবান হওয়াটা সহজ হয়ে যাবে। পাশাপাশি দিতে পারবে ভ্যাট-ট্যাক্সের ফাঁকিও। তবে এসব বিষয়ে কথা বলতে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টুর সাথে কথা বলতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সূত্রঃদৈনিক আজকের পরিবর্তন

Facebook Comments