হাসপাতালে মুঠোফোন ব্যবহার

আপডেট : February, 24, 2017, 5:55 am

একটু কল্পনায় ভাবুন, কোনো এক হাসপাতালের নিঃশব্দ করিডরে দাঁড়িয়ে আছেন আপনি। প্রার্থনা করছেন স্বজনের রোগমুক্তির। প্রতীক্ষা আর অপেক্ষার চূড়ান্ত একটি মুহূর্ত। এমন সময় দূর থেকে মুঠোফোনের টুংটাং রিংটোনের শব্দ আর বাজখাঁই গলায় হাঁক ছেড়ে কথা বলার শব্দে চারপাশ কেঁপে উঠল—ভাবুন তো কেমন লাগবে তখন? এমন পরিস্থিতি কিন্তু অনেক সময় তো আমরাই তৈরি করি। হাসপাতাল-ক্লিনিকে নিজের মুঠোফোনকে অন্যদের সমস্যার কারণ বানিয়ে ফেলি আমরা। আমাদের কাণ্ডজ্ঞান আচরণ অনেকের জন্য অস্বস্তি তৈরি করে। হাসপাতাল-ক্লিনিকে আমাদের একটুখানি সচেতন আচরণই রোগী আর তাঁর স্বজনদের নিশ্চিন্ত একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে।

মুঠোফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে যা খেয়াল রাখবেন
* হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে মুঠোফোনে ‘নিঃশব্দ’ (সাইলেন্ট) কিংবা ‘এয়ারপ্লেন মুড’ চালু করুন। কোনোভাবেই স্বাভাবিক রিংটোন মুঠোফোনে চালু করে হাসপাতালে প্রবেশ করবেন না।
* নেদারল্যান্ডসের গবেষকেরা জানিয়েছেন, প্রায় ৪৩ শতাংশ চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ওপর কোনো না কোনোভাবে মুঠোফোনের প্রভাব দেখা যায়। আইসিইউ কিংবা অপারেশন থিয়েটারের আশপাশে মুঠোফোন বন্ধ রাখুন।
* হাসপাতালের

করিডর কিংবা কেবিন-ওয়ার্ডে কখনোই জোরে কথা বলবেন না। খুব বেশি প্রয়োজন থাকলে হাসপাতালের বাইরে কিংবা রোগী নেই এমন কোনো স্থানে নিচু গলায় কথা বলুন।
* হাসপাতালে মুঠোফোনে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকুন। এতে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
* যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ হাসপাতালে মুঠোফোন, এমপিথ্রি প্লেয়ার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কম্পিউটারসহ যাবতীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্র অপ্রয়োজনে বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
* হাসপাতালের যেসব স্থানে ‘নিঃশব্দ থাকুন’ নোটিশ লেখা থাকে, সেখানে কোনোভাবেই কোনো অবস্থাতে ফোনে কথা বলবেন না। যদি নোটিশ না দেখেন তাহলে হাসপাতালের চিকিৎসক কিংবা নার্সদের কাছ থেকে জেনে নিন কথা বলা যাবে কি না।
* কেউ যদি হাসপাতালে উচ্চ শব্দে কথা বলেন, তাঁকে বিনয়ের সঙ্গে কথা বলতে মানা করুন। কিংবা কোনো চিকিৎসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন।
* খুব বেশি প্রয়োজন হলে ফোনকে ভাইব্রেশন মুডে রাখুন।

সূত্র: অস্ট্রেলিয়ান মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন অ্যাসোসিয়েশন জার্নাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইউএসএ জার্নাল এবং বিবিসি।

Facebook Comments