কলাপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অবস্থান কর্মসূচি

আপডেট : April, 3, 2017, 9:07 pm

বন্দোবস্ত পাওয়া জমিতে প্রভাবশালীদের স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পৌর শহরের বাদুলতলী এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ। আজ সোমবার সকালে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে ১৫টি হিন্দু পরিবারের সদস্যরা আধা ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেন।

এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সাথে সাথে কলাপাড়া থানা পুলিশ প্রতিপক্ষের স্থাপনা তোলার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

নিমাই সাহা ও মনোরঞ্জন শীলের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সকাল ৮টার দিকে তাদের দখলীয় বাদুরতলী মৌজার ৩৩৯ নম্বর খতিয়ানের ৮১৪ নম্বর দাগের জমিতে প্রতিপক্ষ পার্শ্ববর্তী বাদুরতলী গ্রামের বাসিন্দা আ. হক মুসল্লি, দেলোয়ার হোসেন খান, আ. রবসহ অন্যরা ঘর তোলার কাজ শুরু করেছে। বাঁধা দিলেও কোনো কাজ না হওয়ায় এ ঘটনার প্রতিবাদে ১৫টি পরিবারের নারী-পুরুষ-শিশুসহ সব সদস্যরা প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে বাড়িতে ফিরে যান তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে আসা মনোরঞ্জন শীল, নিমাই সাহা-সন্ধ্যা রাণী, শঙ্কর চক্রবর্তী- সুচিত্রা দেবী, জয়দেব চন্দ্র শুকুল-স্বরস্বতী, সৃধাংসু শুকুল-সীতা রাণী, স্বপন চন্দ্র শুকুল-স্বর্ণারাণী, সুনীল চন্দ্র শুকুল-গীতারাণী দম্পতিসহ সবার দাবি তারা ওই দাগের সরকারি খাস জমি ২০১২ সালে বন্দোবস্ত পেয়ে ১৫টি পরিবার ভাগাভাগি করে বসবাস করে আসছেন। সেখানে একটি

মন্দিরও রয়েছে। দুইটি বন্দোবস্ত কেসমূলে তারা ওই জমির মালিক। সেই জমি দখল করতে প্রতিপক্ষ ওই চক্রটি মরিয়া হয়ে উঠেছে।

অভিযুক্তদের দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্যরা এ বিষয়ে বলেন, একই দাগের জমি তারাও ভূমিহীন হিসেবে বন্দোবস্ত পেয়ে স্থাপনা তুলে ভোগদখল করে আসছেন। এমনকি ওই জমি সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে মেপে সীমানা নির্ধারণ করিয়েছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের কোনো জমি দখল করা হয়নি। শুধুমাত্র হয়রানি করার জন্য তাদের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আল-আমিন সরদার জানান, ৮১৪ নম্বর দাগের তিন একর জমি থেকে হিন্দু পরিবারকে ৫০ শতক জমি ভুক্তভোগী পরিবারকে বন্দোবস্ত দেয় সরকার। সেই জমি থেকে প্রায় ১০ শতক জমি দখল করে নিয়েছে প্রতিপক্ষ। বিরোধীয় ওই জমিতে ৩০-৩৫ বছর ধরে হিন্দুরা বসবাস করে আসছেন। এমনিক অনাকাঙ্খিতভাবে ওই দাগের ওপর প্রতিপক্ষও একটি বন্দোবস্ত পায়। বন্দোবস্ত কেস বাতিলের জন্য কলাপাড়া উপজেলা ভূমি বন্দোবস্ত কমিটি ইতিমধ্যে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। সংখ্যালঘু পরিবারের জমিজমা রক্ষা ও জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

কলাপাড়া থানার ওসি জি এম শাহনেওয়াজ বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধীয় জমিতে স্থাপনা তোলার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ”

Facebook Comments