আইন ও বিচারের লিখিত-কথ্য ভাষা বাংলা চাই

আপডেট : February, 24, 2017, 6:15 am

যে দেশে একটু ইংরেজি বলতে পারাকে স্মার্টনেস আর মেধার পরিমাপক ভাবার মতো লোকের সংখ্যাই ঢের, সেখানে সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা দুরূহ-দুঃসাধ্য ব্যাপার!

 

তবে আদালতপাড়ায়, উচ্চ-নিম্ন, ফৌজদারি-দেওয়ানী নির্বিশেষে আইনজীবী-বিচারক সকলের কথ্য ও লেখ্য ভাষা আলবৎ বাংলা হওয়াটা বাঞ্ছনীয়। তা কেবল বাংলা ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি রক্ষার্থে নয়, বিচারপ্রার্থী ও সর্বসাধারণের বোধগম্যতার তাগিদেই জরুরী।

 

ধরুন, গাঁয়ের স্বল্পশিক্ষিত বা অশিক্ষিত একজন বিচারপ্রার্থী, বাদী বা বিবাদী হিসেবে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষী-প্রমাণ, দলিল-দস্তাবেজ বিশ্লেষণ শেষে মহামান্য বিচারক ইংরেজিতে লেখা ভারিক্কী রায় শোনালেন এবং সমধিক উচ্চমানসম্পন্ন বিলেতি ইংরেজিতে লিখিত রায় প্রকাশ

করলেন।

 

বেচারা সাক্ষীগোপাল ঠিক বুঝলোই না, কেন তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হলো বা বেকসুর খালাস দেয়া হলো!

 

আমি বাংলাদেশের নাগরিক। আমাকে আমার দেশের আদালত কোন অপরাধে কোন কোন দিক বিবেচনায় শাস্তি দিল বা খালাস প্রদান করলো তা জানার এবং পরিপূর্ণভাবে বোঝার অধিকার আমার আছে বৈকি!

 

আর রায় যদি আমার মাতৃভাষায় বাংলায় না হয়, যে ভাষা আমার বোধগম্য না, সেই ভিন্নদেশীয় ভাষায় যদি আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি দেয়া হয়, তবে সেটা পরিপূর্ণ ন্যায়বিচার কিভাবে হয়!

 

তাই আইনের ভাষা, বিচারকার্যের ভাষা, আইনজীবী-বিচারকগণের লিখিত ও কথ্য ভাষা অবশ্যই বাংলা চাই!

 

গোলাম রাব্বানীর ফেসবুক থেকে

Facebook Comments