দুর্যোগে খাদ্য যোগানে বরগুনায় ফুড ব্যাংক

আপডেট : April, 11, 2017, 4:07 pm

দুর্যোগকালিন ও দুর্যোগ পরবর্তি সময়ে পরিবারের খাদ্য নিয়ে আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না বরগুনার আমতলী উপজেলার বড় একটা জনগোষ্ঠীর। তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে ফুড ব্যাংক।

ফুড ব্যাংকের কার্যক্রম প্রথমে সীমিত আকারে শুরু করা হলেও বর্তমানে এটি একটি প্রগতির ধারনা হিসেবে গ্রামীণ মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।

ঝড়, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করা আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের নদী পাড়ের ১০ গ্রামের ২৪ হাজার দারিদ্র পীড়িত মানুষের উন্নয়ন ঘটাতে গত ছয় বছর ধরে কাজ করছে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস।

দাতা সংস্থা অক্সফামের আর্থিক সহায়তায়, সরকারী সংস্থা দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচী বিভাগ, সমাজ সেবা বিভাগ, মহিলা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ প্রভৃতির টেকনিক্যাল সাহায্য নিয়ে রিকল প্রকল্পের মাধ্যমে তারা ২৭ টি গ্রামোন্নয়ন সংগঠন তৈরী করে দুর্যোগ নিরসন, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন আয় বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এ কর্মকান্ডগুলোর ধারাবাহিকতায়ই তারা তৈরি করেছে ফুড ব্যাংক। এই ফুড ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো সমন্বয়ের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে জমা রাখা অর্থ দুর্যোগ ও আপাদকালীন সময়ে কাজে লাগানো।

আরপাংগাশিয়া ইউনিয়নের মোহনা গ্রামোন্নয়ন সংগঠনের সদস্যা আলতাভানু, লালভানু, কুলসুম বেগম জানিয়েছেন, সংসারের প্রতিদিনের চাল-ডাল থেকে তারা নিয়মিত কিছুটা আলাদা ভাবে সঞ্চয় ও সংরক্ষণ করে রাখেন। যে কোন ঝড়, বন্যা বা অন্য আপদকালীন সময়ে তাৎক্ষনিক প্রয়োজন মেটাবার জন্য। ফুড ব্যাংকের

প্রাথমিক কার্যক্রম এভাবেই শুরু হয়।

মাসে তারা ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ বা টাকাও জমা করেন । এই সঞ্চিত টাকা সংগঠনের ক্যাশিয়ার জমা নেন ও পাশ বইয়ে এন্ট্রি দেন। সম্মিলিত সঞ্চয় আমতলী উপজেলা শহরের নির্ধারিত ব্যাংকে জমা রাখেন। এভাবে বর্তমানে তাদের প্রতেকের আড়াই থেকে তিন হাজারেরও বেশী টাকা ফুড ব্যাংকে সঞ্চয় হিসেবে জমা হয়েছে। সদস্যদের ইচ্ছে বড় অংকের টাকা জমা হলে ঋন প্রদান বা উন্নয়নমূলক কাজও চালু করা ।

রি-কল প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার সৈয়দা মনিরা সুলতানা সখি জানান, বর্তমানে নিজস্ব উদ্যোগে ২৭ টি ফুড ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফুড ব্যাংকগুলোতে সঞ্চয়ের পরিমান হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। প্রকল্পের সহায়তা সাড়ে তিন লাখ টাকা।

এনএসএস নির্বার্হী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পাননা জানিয়েছেন, দুই ইউনিয়নে এনএসএস’র গ্রামোন্নয়ন সংগঠন এর দেখাদেখি স্থানীয় অন্যান্য লোকজনও ফুড ব্যাংক তৈরি করে সঞ্চয় কার্যক্রম শুরু করেছে। দুর্যোগে জীবন রক্ষার পরপরই প্রয়োজন খাদ্য এবং সর্বদাই খাদ্য নিরাপত্তা। সঞ্চয় ভবিষ্যত সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। এ ধারণা থেকেই ফুড ব্যাংক তৈরি হয়েছে।

আমতলী সরকারী ডিগ্রি কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন আকন বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে ফুড ব্যাংক নতুন ধারনা হলেও তা কার্যকরি ইতিবাচক মাত্রা যোগ করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু দরিদ্র মানুষ নয় সমাজের প্রত্যেকটি পরিবার ও মানুষের জন্য সামর্থ ও অবস্থান অনুযায়ি নিজ নিজ ফুড ব্যাংক তৈরি রাখা দরকার। -বাসস

Facebook Comments