দৃশ্যমান দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু,৪১ ভাগ কাজ সম্পন্ন

আপডেট : February, 26, 2017, 9:34 am

দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে। এ যাবৎ মূল কাজের প্রায় ৪১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এ সেতু ঘিরে পদ্মাপাড়ে চলছে মহাকর্মযজ্ঞ। এখানেই গড়ে উঠবে বিশ্বমানের প্রজাপতি জাদুঘর, সিঙ্গাপুরের আদলে অলিম্পিক ভিলেজ। সেতুর পাশেই সরকার ক্রীড়াপল্লী ও অলিম্পিক কমপ্লেক্স নির্মাণের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মার চরে সবরকম সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ক্রীড়াপল্লী নির্মাণসহ সুবিশাল অলিম্পিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে আমাদের ক্রীড়া প্রশিক্ষণ আরও এগিয়ে যাবে।

পদ্মা সেতুর ৩৭তম গ্রুপ পাইলের কাজ শেষ হয়েছে। এরপর পাইলের ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে পিলার। একটি পিলার থেকে আরেকটি পিলারের ওপর বসবে সুপারস্ট্রাকচার; তারপরই বাস্তবে দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার ও নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের গতকাল দুপুরে মুঠোফোনে এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ৬টি গ্রুপ পাইলের ওপর দাঁড়াবে একটি পিলার। ৩৭তম গ্রুপ পাইলের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। যার ওপর পিলার স্থাপন করা হবে। আর ওই পিলারের ওপর পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো গড়ে উঠবে। গড়ে উঠবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ইতিমধ্যে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। মাওয়াস্থ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে চলছে স্প্যান ও গার্ডার সংযোজনের কাজ। ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ২৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতু। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টের মধ্যে মেলবন্ধন গড়ে তুলবে অনেক আকাঙ্ক্ষার পদ্মা সেতু। প্রমত্তা পদ্মার বুকে বাংলাদেশের অহংকার হিসেবে সেতু জেগে উঠতে শুরু করেছে। এটি সত্যিকারেই বাংলাদেশের অহংকার ও গর্বের প্রতীক। কারণ, নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বপ্ন এর আগে কোনো দিনই দেখেনি বাংলাদেশ। এমনকি বিদেশিরাও এতদিন এটা ভেবে এসেছে যে, বড় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তারা নানা কায়দা করে

নতুন নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছে ঋণ দিতে গিয়ে। একপর্যায়ে পদ্মা সেতুতে ঋণ দিতে গিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত ঋণ বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। শুধু ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্ত বাতিল করেই তারা থামেনি, দুর্নীতির কলঙ্কও দিয়েছে। যদিও বিশ্বব্যাংকের ওই আচরণে দমে যায়নি বাংলাদেশ। বরং কারও ওপর ভরসা না করে নিজস্ব অর্থায়নেই শুরু করেছে নির্মাণকাজ। পদ্মার বুকে এখন সেতুর স্ট্রাকচার দৃশ্যমান। দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে নির্মাণকাজ। স্বপ্নের এ সেতুর সুপারস্ট্রাকচারের দুটি স্প্যান পুরোপুরি প্রস্তুত। এগুলোর ভরসক্ষমতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই স্প্যান দুটি বসানো হবে পিলারের ওপর। আর তখনই দৃশ্যমান হবে পদ্মা সেতুর একাংশ। প্রমত্তা পদ্মার বুকে জেগে উঠবে পদ্মা সেতু নামের বাংলাদেশের অহংকার। বেশ কয়েক দিন আগেই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি ভাসমান ক্রেন চীনের জোহাও থেকে এসেছে মাওয়ায়। এ ক্রেন দিয়েই পদ্মা সেতুর সুপারস্ট্রাকচার স্থাপনের কাজ করা হবে। পদ্মা সেতুর ১৫০ মিটার দীর্ঘ সুপারস্ট্রাকচারগুলো সরাসরি পিলারে বসাতে হবে, যার একেকটির ওজন প্রায় ২ হাজার ৯০০ টন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, নদীশাসন, সার্ভিস এরিয়া টু, অ্যাপ্রোচ রোড মাওয়া প্রান্তে ও জাজিরা প্রান্তে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের নদীশাসনের কাজ চালাচ্ছে চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন লি.। মূল সেতুর নির্মাণকাজ করছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। সেতুর দুই পাড়ে সংযোগ সড়ক, টোল প্লাজা ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যৌথভাবে আবদুল মোনেম লি. ও মালয়েশিয়ার হাইওয়ে কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট কাজ করছে। এ ছাড়া পদ্মা সেতুর কাজ তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। সবকিছু মিলে প্রমত্তা পদ্মার বুকে বাংলাদেশের অহংকার হিসেবে জেগে উঠতে শুরু করেছে পদ্মা সেতুর পিলারের ওপর সুপারস্ট্রাকচার। নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২৩ জেলার মানুষের মাঝে আশার আলো ফুটে উঠেছে। পদ্মাপাড়ের মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ বইছে।

Facebook Comments