তেঁতুলিয়ার ভাঙনে ঝুঁকিতে স্কুল ভবন

আপডেট : March, 9, 2017, 9:26 am

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা-সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে ঝুঁকিতে পড়েছে নিমদী গ্রামের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। এ কারণে আতঙ্ক বিরাজ করছে শিক্ষার্থী-অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। ইতিমধ্যে ওই গ্রামের মোট আয়তনের প্রায় ৭০ শতাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।


সরেজমিনে দেখা যায়, নদী থেকে মাত্র ২৫ ফুট দূরত্বে বিদ্যালয়টির বর্তমান অবস্থান। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অসময়ে নদীভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি নদীর খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। যেকোনো সময় বিদ্যালয় ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে চায় না এবং অভিভাবকেরাও তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না। ফলে শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও দিনে দিনে কমে যাচ্ছে।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আকতার বলেন, ১৯৪২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

অসময়ে নদীভাঙনের কবলে পড়ছে বিদ্যালয়টি। ভয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে চায় না এবং অভিভাবকেরাও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। এ কারণে দিনে দিনে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯৩। যেখানে গত বছরও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল আড়াই শতাধিক।
বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল মান্নান বলেন, তেঁতুলিয়ার ভাঙনের কবলে পড়ে ১০ বছরে নিমদী গ্রামের মোট আয়তনের প্রায় ৭০ শতাংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া অব্যাহত ভাঙনে এ উপজেলার মানচিত্র থেকে কচুয়া, বড়ডালিমা, ধানদী, মঠবাড়িয়া, ধুলিয়া, চরব্যারেট, চরওয়াডেল, চররায়সাহেবসহ ১০ গ্রামের আয়তন দিনে দিনে ছোট হয়ে যাচ্ছে। এতে কয়েক হাজার একর ফসলি জমিসহ কয়েক শ বাড়িঘরের অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে।
নিমদী গ্রামের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী কোনো সরকারের আমলেই এ বিপর্যয় ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রিয়াজুল হক বলেন, নদীভাঙনে ঝুঁকিতে পড়েছে স্কুলভবনটি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments