আমতলীর একমাত্র বরফ কল ৩৬ বছর ধরে বন্ধ

আপডেট : June, 15, 2017, 11:41 pm

আমতলী প্রতিনিধি: আমতলীর মৎস্যজীবি ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে সমবায় অফিস এর ব্যবস্থাপনায় নির্মিত একমাত্র বরফকলটি সংস্কার আর অব্যবস্থাপনার কারনে দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ফলে বরফরে অভাবে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় জেলেরা। বরফকলটি বন্ধ থাকায় এর কোটি টাকা মূল্যের দুই একর সম্পত্তি অবৈধ ভাবে দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। উপজেলা সমবায় অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে আমতলী পৌরসভার বাসুগী গ্রামে দুই একর জায়গা ক্রয় করে উপকূলীয় জেলেদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান আমতলী সমবায় অফিসের মাধ্যমে এই বরফকলটি স্থাপন করে। সংস্থাটির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বরফকলের জন্য একটি পাঁকা ভবন নির্মান করা হয়। বরফ উৎপাদনের জন্য বসানো হয় ৬২ অশ্বশক্তির একটি ডিজেল চালিত মোটর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি। প্রতিদিন ১০টন বরফ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বরফ কলটি শুরুতে লাভ জনক হলেও অজ্ঞাত কারনে মাত্র সাত বছরের মাথায় ১৯৮১ সালে বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হওয়ার ৩৫ বছরেও বরফকলটি আর চালু করা যায়নি। এরপর আমতলীতে আর কোনো বরফকল স্থাপিত না হওয়ায় ভোগান্তিতে পরেছে স্থানীয় মৎস্যজীবি ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। তারা বহু দুর দূরান্ত থেকে বরফ সংগ্রহ করে মৎস্য প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করছেন। এতে তাদের খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় তেমন একটা লাভ করতে পারছেন না তারা। মৎস্যজীবি আব্দুল খালেক জানান, বরফের অভাবে অনেক সময় মাছ নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তখন কম মূল্যে মাছ বিক্রি করে দিতে হয়। এ সময় জেলেদের মাছ ধরার খরচের টাকাও ওঠে না। সরেজমিনে বরফকল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বরফ উৎপাদনের জন্য

নির্মিত ৬শ’ বর্গফুটের ভবনটির জীর্ন দশা। দীর্ঘদিন পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরে থাকার ফলে ভবনের পলেস্তার খসে পরেছে। দরজা জানালার পাল্লা, চৌকাঠ এবং লোহার গ্রীল গুলো স্থানীয় লোক জন খুলে নিয়ে গেছে। ভবনের ভিতরে বরফ উৎপাদনের জন্য লোহার অকেজো ২/৩টি ক্যান ছরিয়ে ছিটিয়ে পরে রয়েছে। বরফ উৎপাদনের জন্য স্থাপিত ৬২ অশ্বশক্তির ডিজেল চালিত মোটরের যন্ত্রপাতি কিছুই নেই সব চুরি হয়ে গেছে। ভবনের পাশেই পানি সরবরাহের জন্য খনন কৃত পুকুরটি মৃত প্রায়। পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। বরফ কলের দুই একর জায়গার কোন হদিস নেই। ভবন বাদে পুরো জায়গা স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী লোকজন দখল করে তাতে গাছ লাগিয়েছে এবং ঘরবাড়ি তুলে বসবাস করছে। স্থানীয় বাজার মূল্যে জবর দখল কৃত জায়গার মূল্য কোটি টাকার উপরে। ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো: কালু মিয়া বলেন, বেদখল হয়ে যাওয়া বরফকলের সম্পত্তি জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার হওয়া প্রয়োজন। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আজাদুর রহমান বলেন, বরফকলের কোটি টাকা মূল্যের জায়গা অবৈধ ভাবে স্থানীয়রা ভোগ দখল করছেন। বরফ উৎপাদনের জন্য স্থাপিত মোটরের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে গেছে। অবৈধ দখল মুক্ত এবং বরফকলটি চালু করার জন্য বেশ কয়েকবার ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানালেও কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মুশফিকুর রহমান বলেন, এ উপজেলাটি উপকূলীয় হওয়ায় এখানে জেলেদের সংখ্যা বেশী। জেলেদের আহরিত মাছ প্রক্রিয়াজাত করনের জন্য বরফ একান্ত প্রয়োজন। তাছাড়া এ এলাকায় ছোট বড় কয়েকটি মৎস্য বন্দর রয়েছে। এসকল বিষয় বিবেচনা করে এ এলাকায় বরফকল স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে। বেদখল হয়ে যাওয়া সম্পত্তিও দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা হবে বলেও তিনি জানান।

Facebook Comments