চাঁদামুক্ত গভীর নলকুপে চাঁদা নিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা আত্মসাত করলেন প্রকৌশলী

আপডেট : March, 10, 2017, 8:18 pm

গৌরনদী প্রতিনিধি
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পল্লি অঞ্চলে পানি সরবারহ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি ঘূর্নিঝড় “রোয়ানু”র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় ২০১৭-২০১৭ইং অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর জরুরী ভিত্তিতে পানির উৎস স্থাপনের ভৌত বরাদ্দের অধীনে গৌরনদী উপজেলার ৫০টি গভীর নলকূপ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চাঁদামুক্ত গভীর নলকূপে বরাদ্দের বিষয়টি গোপন রেখে গৌরনদী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী চাঁদা আদায় করে তিন লাখ পঞ্চান্ন হাজার টাকা নিজেই আত্মসাত করেছেন। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরাদ্দ পত্রে দেখা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলল অধিদপ্তরের পল্লি অঞ্চলে পানি সরবারহ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি ঘূর্নিঝড় “রোয়ানু”র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় ২০১৭-২০১৭ইং অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর জরুরী ভিত্তিতে পানির উৎস স্থাপনের ভৌত বরাদ্দে “রোয়ানু”র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় বরিশালের ৮ জেলায়  সাত শত আশিটি গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। বরাদ্দ পত্রে পরিস্কারভাবে বলা হয়, বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে পানির উৎস সমূহ চাঁদা মওকুফ। ওই কর্মসূচীর আওতায় গৌরনদী উপজেলায় ৫০টি গভীর নলকূপ স্থাপনের নিমিত্তে স্থানীয় সাংসদের মতামতের ভিত্তিতে তালিকা প্রনয়ন করা হয়। গৌরনদী উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ওই ৫০টি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য প্রকল্প স্থান নির্ধারনের জন্য দায়িত্ব বণ্টন করেন। বণ্টন অনুযায়ী উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুটি করে ১৪টি, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক একটি করে ১৪টি ও ১৭টি  পৌর সভা ও উপজেলার বিশেষ ব্যক্তিকে প্রকল্প স্থান নির্ধারনের জন্য দায়িত্ব বন্টন করা হয়। সূত্র জানান, বরাদ্দকৃত গভীর নলকূপ চাঁদা মওকুফ এ বিষয়টি কেউই জানেন না। চাঁদা  মওকুফের বিষয়টি গোপন রেখে গৌরনদী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. মঈনুদ্দিন আহম্মেদ প্রকল্প স্থান নির্ধারনকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে

প্রতিটি নলকূপ বাবদ সাত হাজার একশত করে টাকা আদায় করেন নিজেই তিন লাখ পঞ্চান্ন হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন। গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুর আলম সেরনিয়াবাত, সরিকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন মোল্লা বলেন, ঘূর্নিঝড় “রোয়ানু”র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় চাঁদামুক্ত নলকূপ বরাদ্দ করার বিষয়টি আমরা জানতাম না। চাঁদা মওকূফের বিষয়টি গোপন রেখে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রতিটি নলকূপ বাবত সাত হাজার একশত করে টাকা আদায় করে নিজেই তা আত্ম,সাত করেছেন। একই কথা জানালেন গৌরনদী পৌর সভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আতিকুর রহমান। সুবিধাভোগীরা দিয়াশুর গ্রামের মো. সোবাহান হাওলাদার জানান, নলকূপ বরাদ্দ পাওয়ার পূর্বেই টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। চাঁদা বাবত সাত হাজার একশত টাকা পরিশোধ করার কথা জানালেন তিখাসার গ্রামের মো. রুস্তুম আলী বয়াতিসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৮ সুবিধাভোগী। গৌরনদী পৌর অওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো. কবির হোসেন খান বলেন, আমি একটি প্রকল্পের স্থান নির্ধারন করেছি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সরকারি ফি জমা দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে সাত হাজার একশত টাকা নেন। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে গৌরনদী উপজেলাজনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. মঈনুদ্দিন আহম্মেদ বলেন,  আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি, বিশেষ গ্রামীন নলকূপ বাবত টাকা নেওয়া হয়েছে। মঈনুদ্দিন আহম্মেদের দাবী প্রত্যাখান করে গৌরনদী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানান, বিশেষ গ্রামীন প্রকল্পে ২১টি থেকে টাকা নেওয়া বৈধতা থাকলেও গৌরনদী উপজেলায় “রোয়ানু”র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় ২০১৭-২০১৭ইং অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর জরুরী ভিত্তিতে পানির উৎস স্থাপনের ভৌত বরাদ্দের অধীনে ৫০টি গভীর নলকূপ থেকে টাকা আদায় সম্পূর্ন অবৈধ। অথচ  জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ৭১টি প্রকল্প থেকেই চাঁদা আদায় করেছেন।

Facebook Comments