বরিশালে সিঙ্গেল ফেরিঘাটে ডাবল টাকা!

আপডেট : June, 18, 2017, 9:49 am

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গোমা ফেরিঘাটে দুই দফা টাকা আদায় করা হয়। তাও আবার নির্ধারিত টাকার চেয়ে দ্বিগুণ-তিন গুণ। এ ঘাটে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়।

গোমা নদী ফেরিতে পারাপারের সময় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এক দফা এবং জেলা পরিষদ খেয়াঘাটের জন্য আরেক দফা টাকা আদায় করে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ফেরিতে নদী পারাপার হলে তাঁকে আর খেয়াঘাটে টাকা দিতে হবে না।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, গোমা ফেরিতে ইজারাদারের পক্ষে মোশারফ হোসেন নামের এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলপ্রতি ২০ টাকা আদায় করছেন। মাইক্রোবাসের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারিত হলেও আদায় করছেন ৩০০ টাকা। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইজারাদার বলেছেন, তাই এই টাকা আদায় করা হচ্ছে। তবে ফেরিতে নদী পার হলে আর খেয়াঘাটে টাকা দিতে হবে না। কিন্তু ফেরিতে নদী পার হয়ে গেলেও খেয়াঘাটে জনপ্রতি ১০ টাকা এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।

মাকসুদা বেগম নামের এক গৃহবধূ বলেন, ‘আমি ফেরিতে নদী পার হয়েছি। এপারে আসার পর খেয়াঘাটের ইজারাদার ১০ টাকা আদায় করেছেন। ইজারাদারের লোকদের আমি বলেছি, আমি তো ফেরিতে পার হয়েছি, তাহলে কেন ঘাটে টাকা দেব? আমাকে বলা হয়েছে, খেয়াঘাটের ১০ টাকা দিতেই হবে। কী করা, তর্ক না বাড়িয়ে টাকা দিয়েছি।’

মোটরসাইকেল আরোহী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ফেরিতে ২০ টাকা দিয়েছি। এপারে আবারও ২০ টাকা দিতে হয়েছে।’

 পারভেজ সাজ্জাদ, ডালিয়া আক্তার, ফিরোজ আলম, আবুল কালাম আজাদসহ বেশ কয়েকজন এমন

হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

গোমা ফেরিঘাটের সওজ বিভাগের ফেরি ইজারাদারের একজন মো. রাজু বলেন, ‘মোটরসাইকেলপ্রতি ৫ টাকা আদায় করতে বলেছে সওজ কর্তৃপক্ষ। তারা মাত্র তিনটি ট্রিপ দিতে বলেছে। আমরা অতিরিক্ত ট্রিপ দিই। তাই তেল খরচসহ অন্যান্য খরচ পুষিয়ে নিতে ১৫ টাকা করে নেওয়া হয়। তবে ফেরিতে টাকা নেওয়ার পরও খেয়াঘাটে আবার টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটি জুলুম।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খেয়াঘাটের একজন টাকা আদায়কারী বলেন, ইজারাদার খেয়াঘাট ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০ টাকা এবং মোটরসাইকেল পারাপারের জন্য ৪০ টাকা নিতে বলেছেন।’

জেলা পরিষদের প্রধান হিসাবরক্ষক মো. নাছিরউদ্দিন বলেন, গোমা খেয়াঘাটে জনপ্রতি ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর মোটরসাইকেলের জন্য ১০ টাকা। কিন্তু ওখানে ইজারাদারেরা বেশি টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, জেলা পরিষদ কেবল খেয়াঘাটের ভাড়া আদায় করবে। তা ছাড়া ইজারার শর্তে বলা আছে, টাকা আদায়ের তালিকা জনসমক্ষে টানাতে হবে। এরপরও ঘাটে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। তবে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সওজ বিভাগের বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তাফা বলেন, ‘যেসব এলাকায় সওজ বিভাগের ফেরি আছে, সেখানে আর কেউ ভাড়া আদায় করতে পারবে না। আর ফেরির ভাড়া ৫ টাকা, ২০ টাকা আদায় করা হবে কেন? এ ব্যাপারে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। আমরা সব ঘাটে তালিকা দিয়েছি। সেই তালিকা অনুযায়ী টাকা আদায় করা না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Facebook Comments