[english_date], [bangla_day]

ভোলায় ৪২টি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে

আপডেট: February 21, 2019

উপকূলীয় জেলা ভোলার ৭ উপজেলায় ২২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২টি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। ‘বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্প’র মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর অধীনে এসব স্কুল কাম সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ কাজের ৮৬ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের জুনের মধ্যে প্রতিটি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে। বিশ্ব ব্যাংক’র অর্থায়নে আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলোর নিচতলা ফাঁকা রেখে তৃতীয় তলা পর্যন্ত করা হবে। দুর্যোগকালীন সময়ে প্রতিটি কেন্দ্রে ২ হাজার মানুষের ধারন ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে করে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় লাখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন ’ বলেন, ভোলা উপকুলীয় জেলা হওয়াতে এখানে সাইক্লোন সেল্টার অতি গুরুত্ব বহন করে। দুর্যোগের সময় এসব আশ্রয় কেন্দ্রই হয়ে উঠে সাধারন মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল। প্রতিটি কেন্দ্র বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার হিসাবে ব্যবহার করা হবে। কাজের শতভাগ গুণগত মান বজায় রাখার জন্য নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ সম্পন্ন হলে দুর্যোগের আতংক অনেকটাই কমে আসবে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এলজিইডি’র জেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী মো: আব্দুস সালাম জানান, এসব সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ কাজ ২০১৭ সালের মার্চ মাসে শুরু করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৯টির কাজ শেষ হয়েছে ৮৮ ভাগ, দৌলতখানে ৩টির ৮০ ভাগ, বোরহানউদ্দিনে ২টির ৭০, লালমোহনে ৭টির ৭৫, তজুমুদ্দিনে ৫টির ৭০, চরফ্যাসনে ১০টির ৭৮, দ্বীপ মনপুরা উপজেলায় ৬টির ৩৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অত্যাধুনিক ডিজাইনের এসব সাইক্লোন সেল্টারে সরাসরি অসুস্থ রোগীকে র‌্যামের মাধ্যমে দোতালায় উঠানো, গরু-ছাগল রাখা, বিশুদ্ধ খাবার পানিসহ সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, এসব সাইক্লোন সেল্টারে জলোচ্ছ্বাসের সময় পানি সহজে সরে যাওয়ার জন্য নিচতলা ফাঁকা রাখা হয়েছে। আর দ্বোতালা ও তিন তলায় যখন ঘুর্ণিঝড় থাকবেনা তখন স্কুল হিসাবে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া দুর্যোগের সময় এখানে মানুষ, গবাদি প্রাণি, গুরুত্বপুর্ণ জিনিস-পত্রসহ অবস্থান করতে পারবেন। সরকারের নতুন নতুন এসব আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনে দুর্যোগ মোকাবেলায় মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরিতে সহায়তা করবে।

জেলা ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি’র উপ-পরিচালক মো: শাহাবুদ্দিন মিয়া  জানান, জেলায় বর্তমানে ছোট বড় মিলিয়ে চার শতাধিক সাইক্লোন সেল্টার রয়েছে। দুর্যোগ মুহুর্তে এসব কেন্দ্রে চার লাখেরও বেশি মানুষ অবস্থান করতে পারে। এসব সেল্টারের অবস্থাও বেশ ভালো। তাই নতুন ৪২টি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ দীপাঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবেলায় অনেক কাজ দেবে। তবে আমাদের চরাঞ্চলগুলোতে আরো সাইক্লেন সেল্টার নির্মাণ প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

জেলা রেডক্রিসেন্ট’র সাধারন সম্পাদক আজিজুল ইসলাম বলেন, জেলার নদী তীরবর্তী এলাকায় সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিলো। কারণ এখানকার মানুষকে প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক প্রতিকুলতার সাথে লড়াই করতে হয়। আর সাইক্লেন সেল্টার হলো ঝড়ের সময় অন্যতম প্রধান নিরাপদ স্থান। তাই জেলায় নতুন ৪২টি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণকে সরকারের একটি সময়উপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন তিনি।
এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন আরো বলেন, দুর্যোগের সময় সকল টিউবয়েল পানির নিচে তলিয়ে যায়। তাই সাইক্লোন সেল্টারগুলোতে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে বিশুদ্ধ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন