[english_date], [bangla_day]

“মিন্নি নিজেই কি রিফাত হত্যাকান্ডে জড়িত? জনমনে নানা প্রশ্ন ।”

আপডেট: July 11, 2019

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যাদির পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে  প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হল।

জানা গেছে, স্কুল জীবন থেকেই আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে তার নিহত স্বামী রিফাত শরীফের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। মিন্নি আইডিয়াল কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময়ে প্রথমে জুয়েল নামের এক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু কিছুদিন পর তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। পরে রিফাত শরীফের প্রেমে পড়েন মিন্নি। তাদের প্রেমের বিষয়টি অনেকেই জানতেন। কিন্তু বছর দুয়েক পর তাদের মধ্যেও মনমালিন্য সৃষ্টি হয়। এই ফাঁকে মিন্নি সখ্যতা গড়ে তোলেন সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের সঙ্গে।

এলাকায় নয়ন বন্ডের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় মিন্নি তার প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং একপর্যায়ে তার সান্নিধ্যেই ইয়াবায় আসক্ত হয়। এরপর দুই পরিবারের অনুপস্থিতিতে গত বছরের ১৫ অক্টোবর কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। কিন্তু তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। নয়ন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। যার কারণে পরিবারের চাপে নয়নের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় মিন্নির। ফলে বিয়ের ছয় মাস পর নয়ন বন্ডকে ছেড়ে দেন মিন্নি। এরপর প্রাক্তন প্রেমিক রিফাত শরীফকে এ বছরের ২৬ এপ্রিল বিয়ে করেন। এ বিয়ের আগে নয়নকে তালাক দিয়েছিল কি না সে সম্পর্কে জানা যায়নি।

 

নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নি

নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নি

মিন্নিকে বিয়ের কারণে রিফাত শরীফের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন নয়ন বন্ড। মিন্নিও ভয়, অনুরাগ ও ইয়াবা আসক্তির কারণে নয়ন বন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে জানা যায়। এমন পরিস্থিতিতে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী দুজনে মিলে রিফাত শরীফকে খুন করার পরিকল্পনা করেন।

গত ২৬ জুন নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী পরিচালিত ‘০০৭’ ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে সমন্বয় করে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সেদিন সকালে বরগুনা কলেজ গেটে আসতে বলেন। ফেসবুক গ্রুপে তারা মাহাথির মোহাম্মদ নামে একজনকে রামদা নিয়েও আসতে বলেন।

ঘটনার সময়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রিশান ফরাজী নামের একজন রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে আছেন। এ সময় নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী তাকে কোপাচ্ছেন। এই হত্যাকাণ্ডে আরো ১২ থেকে ১৫ জন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মিন্নি সুন্দরী ও খোলামেলা ধরনের মেয়ে হওয়ায় এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেদের আকর্ষণ ছিল। মিন্নি নিজেও বিষয়টিকে উপভোগ করতেন। তিনি সম্পর্ক, বিয়ে, তালাক বিষয়ে আবেগতাড়িত আচরণ করতেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি প্রাথমিকভাবে জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং মিন্নি একজন প্রতিবাদী নারী হিসেবে ব্যাপক পরিচিত হয়। কিন্তু বেশ কয়েকটি বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে; হত্যাকারীরা মিন্নিকে কেন আঘাত করেনি, হত্যা পরবর্তীতে Minni Shorif নামক ফেসবুক আইডি থেকে নয়ন বন্ডকে পাঠানো ‘Sorry Jan’ লেখা মেসেজ, হত্যাকাণ্ডের দিন মিন্নির কলেজে আগমন, কলেজ গেট থেকে রিফাত শরীফকে কিল ঘুষি দিতে দিতে নিয়ে যাওয়ার সময়ে তার বাধা না দেয়া, নয়ন বন্ডের সঙ্গে ঘটনার আগের দিন ও পরেরদিন মোবাইলে কথোপকথন ও ঘটনা পরবর্তীতে প্রকাশিত একাধিক ভিডিও ফুটেজ।

নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির যোগাযোগ ছিল এবং রিফাত শরীফকে হত্যা পরিকল্পনায় মিন্নির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে প্রশ্ন উঠেছে।

রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন এজাহারভুক্ত ও তিনজন সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই জবানবন্দিতে তারা নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। আসামি রিফাত ফরাজী বর্তমানে ৭ দিনের রিমান্ডে। এর আগে গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এ মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় অস্ত্র ও গুলি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন