[english_date], [bangla_day]

শেষ হলো গণিতের আনন্দ উৎসব

আপডেট: March 3, 2019

এবারের গণিত উৎসবে সেরাদের সেরা হয়েছে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সৌমিত্র দাস। পরীক্ষায় ৬৪ নম্বর পেয়ে সে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য অলিম্পিয়াড পদক পেয়েছে। সৌমিত্র বলে, ‘নবম শ্রেণি থেকে গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিচ্ছি। এবারই সেরা হলাম। অনেক ভালো লাগছে।’

গতকাল শনিবার ছিল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো জাতীয় গণিত উৎসব ২০১৯ ও ১৭তম বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের শেষ দিন। ঢাকার সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল প্রাঙ্গণ গতকালও ছিল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সরগরম। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নানা আয়োজনে মেতে ছিল তারা।

সকাল নয়টায় উৎসব শুরু হয় গণিত অলিম্পিয়াডের মূল মঞ্চে থিম সংয়ের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে। নাচের পর হয় রোবট শো প্রদর্শনী। অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার জন্য হিউম্যানয়েড রোবট নিনো শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানায়।

এরপর হয় রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। তিন রাউন্ড হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে জয়ী হয় মোয়াজ, স্বপ্নিল ও সাজিদ। শুরু হয় পটচিত্রের সঙ্গে পটের গানের পরিবেশনা।

গানের পর মঞ্চে আসেন অতিথিরা। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ভিত্তি আরও শক্ত করা আমাদের মূল লক্ষ্য। তোমাদের ওপরই দায়িত্ব আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার।’ অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘পুরস্কার না পেলে তোমরা মন খারাপ কোরো না। আমি ছোটবেলায় কখনো পুরস্কার পাইনি। ফেসবুকে বেশি থাকলে মনোযোগ কমে যায়। তাই ফেসবুক কম করে, জিপিএ ফাইভের পেছনে না ছুটে বই পড়ো, আনন্দ করো।’

বই পড়া ও কবিতা মুখস্থ করার ওপর জোর দিয়ে কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, ‘তোমরা মুখস্থকে না বলো। কিন্তু অন্তত ৩০টি ভালো কবিতা মুখস্থ রাখবে। কবিতা মুখস্থ রাখলে জীবনটা সহজ হয়ে যাবে।’ বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, স্কুলের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সিলেবাসের বাইরের পাঠ্যবই পড়লে পড়াটা আরও সহজ হয়।

ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এহতেশামুল হক খান বলেন, গণিতের ভীতি জয় করে এটা নিয়ে যে উৎসব করা যায়, এটাই এই উৎসবের সবচেয়ে বড় সফলতা। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ, বাংলাদেশ গণিত দলের কোচ মাহবুব মজুমদার, গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, একাডেমিক কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান, ঝিনাইদহের প্রবীণ শিক্ষক আলতাফ হোসেন, শিল্প উদ্যোক্তা মাঈনুদ্দীন মোনেম, প্রাথমিক স্কুলের প্রকল্প পরিচালক নূরন্নবী সোহাগ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে গত বছর আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক পাওয়া আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরী ও ব্রোঞ্জপদক পাওয়া তামজিদ মুর্শেদের লেখা গণিতের স্বপ্নযাত্রা বইয়ের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। জাওয়াদ চৌধুরীকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।

সেরাদের সেরা যারা

প্রাইমারি ক্যাটাগরিতে মেয়েদের মধ্যে সেরা হয়েছে রংপুরের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নওশীন আফিয়া জাহান এবং ছেলেদের মধ্যে সেরা হয়েছে উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুদীপ্ত সাগর। জুনিয়র ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের অম্লান দে, সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে মো. মারুফ হোসেন, হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে রাজেন্দ্র কলেজের সৌমিত্র দাস। এ ছাড়া অলিম্পিয়াডে মেয়েদের মধ্যে সেরা হয়েছে নওয়াব ফয়জুন্নেছা গার্লস হাই স্কুলের মোসাম্মাৎ আমেনা আক্তার। সেরা গণিত ক্লাব হিসেবে পুরস্কার পায় জোসেফাইট ম্যাথ ক্লাব।

চূড়ান্ত পর্বে ৮৪ জনকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। তাদের মধ্যে ৪০ শিক্ষার্থী ঢাকার গণিত ক্যাম্পে অংশ নেবে। তাদের মধ্যে নির্বাচিতরা জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড অংশ নেবে।

সবশেষে গণিত অলিম্পিয়াডের স্বেচ্ছাসেবকদের (মুভার্স) হইচই আর নাচগানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের জাতীয় গণিত উৎসব।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন