[english_date], [bangla_day]

ফণীর প্রভাবে বরগুনায় একহাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট

আপডেট: May 6, 2019

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে প্রবল বাতাস ও বৃষ্টিতে বরগুনার ছয় উপজেলায় একহাজার ২০৩ হেক্টর জমির বোরো ধান, মরিচ, চিনাবাদাম, তিল ও মুগডাল নষ্ট হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, এবছর জেলায় ৪৭ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান, মুগডাল, মরিচ, চিনাবাদাম ও তিল আবাদ করা হয়। এর মধ্যে বোরো ধান ২৫৮৫ হেক্টর জমিতে, মরিচ ২০৩০ হেক্টর জমিতে, চিনাবাদাম ১২৬০ হেক্টর জমিতে, তিল ২০৫ হেক্টর জমিতে ও  ৪১২০০ হেক্টর জমিতে মুগডাল আবাদ করা হয়।

এ সূত্র আরও জানায়, ফণীতে ছয় উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একহাজার ২০৩ হেক্টর জমির ফসল। এর মধ্যে ৯০ হেক্টর জমির বোরো ধান, ৩৪ হেক্টর জমির মরিচ, ৪১ হেক্টর জমির তিল, ২১৪ হেক্টর জমির চিনাবাদাম ও ৮২৪ হেক্টর জমির মুগডাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সদর উপজেলার হেউলিবুনিয়া গ্রামের কৃষক আশ্রাফ আলী বলেন, ‘এবছর ধারদেনা ও এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে পাঁচ বিঘা জমিতে মুগডাল আবাদ করেছিলাম। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। সরকার মোগো সাহায্য না করলে মোরা পরিবারপরিজন নিয়ে মরা ছাড়া আর কোনও গতি নেই।’

সদর উপজেলার খাজুরতলা গ্রামের কৃষক মাসুদ হাওলাদার বলেন, ‘আমি ৪০ শতাংশ জমিতে  মুগডাল, ৩০ শতাংশ  জমিতে চিনাবাদাম আবাদ করেছিলাম।  ঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সব নষ্ট হয়ে গেছে।’

.সদর উপজেলার বানাই গ্রামের মুগডাল চাষি বাচ্চু বলেন, ‘এবছর ১০ বিঘা জমিতে মুগডাল দিয়েছিলাম। প্রথম দফায় ডালও তুলেছিলাম। কিন্তু ফণির প্রভাবে ঝড় ও বৃষ্টিতে সব ডাল নষ্ট হয়েছে। সরকারি কোনও সহায়তা না পেলে আমাদের টিকে থাকা দায় হয়ে যাবে।’

সদর উপজেলার ৯ নম্বর এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ সেলিম বলেন, ‘মুগডাল প্রায় পেকে গিয়েছিল। কেউ কেউ আবার কিছু কিছু মুগডাল তুলেও ছিল। মুগডাল পাকা থাকার কারণে বাতাস ও ঝড়ে মাটিতে পরে নষ্ট হয়ে গেছে।  বিষয়টি আমরা কৃষি অফিসকে জানিয়েছি। আশা করছি, তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানিয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষদের সহায়তা করবে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মতিয়ুর রহমান বলেন, ‘ফণীর প্রভাবে বরগুনায় বোরো ধান, মুগডাল, চিনাবাদাম, তিল ও মরিচের কিছু ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া, অন্য ফসলের তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা পাঠিয়েছি।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে কথা বলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবো। ইতোমধ্যে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই কৃষকদের সহায়তা প্রদান করতে পারবো। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকেও আমরা বরাদ্দ পাওয়া শুরু করেছি।’

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন