[english_date], [bangla_day]

জেলকোড অনুযায়ী ওসি মোয়াজ্জেমকে সুবিধা দেয়ার নির্দেশ

আপডেট: June 24, 2019

নিউজ ডেক্সঃ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে জেলকোড অনুযায়ী ডিভিশন (বিশেষ সুযোগ-সুবিধা) দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামশ জগলুল হোসেন শুনানি শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

এরআগে ২০ জুন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামশ জগলুল হোসেনের আদালতে এ আবেদন করেন তার আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ। ডিভিশনের ওপর শুনানির জন্য আজকের দিন (২৪ জুন) ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম প্রথম শ্রেণির নাগরিক। কারাগারে তার প্রথম শ্রেণির ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেছি।’এর আগে ১৭ জুন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস শামস জগলুল হোসেন ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিন তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ তার জামিনের বিরোধিতা করেন।

সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তাঁর মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। এর ১০ দিন আগে নুসরাত মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম সে সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন। এবং তা ভিডিও করে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সাইয়েদুল হক। মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল গত ২৭ মে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। ৩১ মে পরোয়ানার চিঠি ফেনীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পৌঁছায়। কিন্তু পুলিশ সুপার কাজী মনির-উজ-জামান বারবার বিষয়টি অস্বীকার করতে থাকেন। একপর্যায়ে ৩ জুন রাতে পরোয়ানা হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। এর দুই দিন পর বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে পরোয়ানা রংপুর রেঞ্জে পাঠানো হয়। তখন আবার রংপুর রেঞ্জ বলে, কাজটি বিধি মোতাবেক হয়নি। পুলিশের এই গড়িমসির সুযোগে মোয়াজ্জেম সটকে পড়েন। পরোয়ানার ২০ দিন পর (১৬ জুন) ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার হন।

উল্লেখ্য, ডিভিশনপ্রাপ্ত একজন হাজতি কারাগারে আসবাবপত্র হিসেবে একটা টেবিল, একটা খাট, চাদর ও একটা চেয়ার পেয়ে থাকেন। সেলে পড়ার জন্য পত্রিকা, বইয়ের পাশপাশি একটি সাধারণ টেলিভিশন, রেডিও পান হাজতি। ব্যবহার্য উপকরণ হিসেবে তিনি সাবান, টুথপেস্ট, আয়না, বালিশ, কম্বল, তোশক, চিরুনি, তেল, পায়ের স্যান্ডেল, তোয়ালে পাবেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন